নিউজপোল ডেস্ক:‌ ‘‌বাংলাদেশ তোদের না। ভারতে চলে যা’‌। এই বলেই বাংলাদেশের আনোয়ারায় এক হিন্দু শিক্ষকের পরিবারকে ভিটেছাড়া করল যুব লিগের নেতা। শাসকদল আওয়ামী লিগের যুব শাখা হল যুব লিগ। ওই নেতার ভয়ে সন্ত্রস্ত এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারগুলো। তালা পড়েছে কালী মন্দিরেও।
বাংলাদেশে মন্দির ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা আকছার ঘটছে। কখনও অভিযোগ উঠেছে শাসকদল আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে। কখনও আবার জামাত বা বিএনপি। সরকার বদলালেও এই প্রবণতা নির্মূল হয়নি। এবার এই অত্যাচারের জেরে পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হলেন নিরঞ্জন চক্রবর্তী। ১০০ বছরের এই শিক্ষক এখন শয্যাসায়ী। তাঁর ছেলে প্রণব চক্রবর্তীও হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। নিরঞ্জনবাবুর বাড়ির গেটে এখন যুব লিগ নেতা মধু হেলালের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড টানানো। তাতে দাবি করা হয়েছে, এই জমির মালিক সে।
নিরঞ্জনবাবুর পরিবার কোথায় গেছেন, প্রতিবেশীরা বলতে পারেননি। জানা গেছে, ১০ এপ্রিল তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয় মধু হেলাল আর তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। অসুস্থ নিরঞ্জনবাবুর সামনেই তাঁর ছেলে–মেয়েকে হেনস্থা করা হয়। ছেলে প্রণববাবুকে কয়েকদিন হেলালের বাড়িতে আটকেও রাখা হয়। পরে একটি কাগজে জোর করে সই করানো হয় তাঁদের। সেখানে লেখা রয়েছে, বিভিন্ন সময় হেলালের কাছ থেকে ধার নিয়েছেন নিরঞ্জনবাবু। এজন্য তাঁর বাড়ি ৪০ লাখ টাকায় কিনে নেওয়া হল। স্থানীয় শাসকদলের নেতারা ঘটনার নিন্দা করেছেন। কিন্তু সুরাহা হয়নি।
এই একই ছবি দেখা যায় এপারেও। সংখ্যালঘুদের প্রায়ই হুমকি দেওয়া হয়, ‘‌পাকিস্তানে চলে যাও’‌। সুতরাং এই বিষয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মিল কিছু কম নয়।