নিউজপোল ডেস্ক:‌ হাজার হাজার বছর আগে, যখন ক্রেন ছিল না, তখন বিরাট ইমারতগুলো তৈরি হতো কীভাবে?‌ এই প্রশ্নগুলো কিন্তু প্রায়ই আমাদের ভাবায়। তখনই ভূত–প্রেত–দানবের মতো অলৌকিক শক্তির অস্ত্বিত্ব মেনে নিতে থাকি। এই একই প্রশ্ন ভাবিয়েছিল আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (‌এমআইটি)‌–র ইঞ্জিনিয়ারদের। গবেষণা করে তাঁরা দেখেছেন, ওসব দৈত্য–দানব কিচ্ছু নয়। সবটাই হচ্ছে প্রস্তর খণ্ডের ভারসাম্যের খেলা, যেগুলো জুড়ে তৈরি হয় ইমারত। ঠিক যেমন শিশুদের পাজ্‌ল।

গবেষকরা প্রায় ১৭০০ কেজি ওজনের এক–একটা প্রস্তরখণ্ড একা হাতে ঠেলে দেখিয়ে দিয়েছেন, যে এটা এমন কিছু আহামরি কোনও কাজ নয়। সেই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। দেখে মনে হবে যেন হালকা কোনও শোলার টুকরো ঠেলা হচ্ছে। খণ্ডগুলোর আকৃতি ভিন্ন রকম। খাঁজ কাটা। একটির খাঁজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় অন্যটিকে। খাঁজে–খাঁজে এঁটে গেলেই কেল্লাফতে। ঠিক এভাবেই অতীতে তৈরি হয়েছিল পিরামিড, তাজমহল থেকে বড় বড় মন্দির। জানিয়ে দিলেন গবেষকরা।
গবেষণাটি চালায় ম্যাটার ডিজাইন নামে একটি সংস্থা। সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ব্র‌্যান্ডন ক্লিফোর্ড এমআইটি–তে পড়ান। নির্মাণের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করে ক্লিমেক্স সংস্থা। তাদেরও অনুদান রয়েছে গবেষণায়। কংক্রিটের এই বিরাট প্রস্তরখণ্ড নকশা করেছে ম্যাটার ডিজাইন সংস্থার ইঞ্জিনিয়াররা। আধুনিক প্রযুক্তি ‘‌থ্রিডি প্রিন্টিং’‌–এর সাহায্যে। এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে কেউ একা হাতে এগুলোকে সরাতে পারেন। ক্লিফোর্ড জানান, তাঁদের লকশা করা এই বিশেষ প্রস্তরখণ্ড জুড়ে গরিবদের জন্য সস্তায় ঘর তোলা যাবে। নির্মাণকর্মীদের মজুরিতে খরচ করতে হবে না।