নিউজপোল ডেস্ক: চাঁদ নাকি কুঁকড়ে যাচ্ছে! নাসার সাম্প্রতিক গবেষণা কিন্তু তেমনই বলছে। ভূস্তরের নীচে যেমন টেকটনিক প্লেট আছে, চাঁদে কিন্তু তেমন নয়। ফলে, কোটি কোটি বছর ধরে ক্রমশ শীতল হতে থাকা চাঁদের উপরিভাগ কুঁকড়ে যাচ্ছে। একটি আঙুর থেকে রস বের করে নিলে যেমন হয়, বিষয়টা ঠিক তেমনই। কুঁকড়ে যাওয়ার ফলে মাটির কিছু অংশ পৃষ্ঠভাগ থেকে উঁচুতে উঠে যাচ্ছে। আর তা থেকে জন্ম দিচ্ছে একের পর এক চন্দ্রকম্প (চাঁদের ভূমিকম্প)। এর ফলেই প্রায় ৫০ মিটার পাতলা হয়ে গেছে চন্দ্রপৃষ্ঠ, এমনটাই জানিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে ২৮টি চন্দ্রকম্প হয়েছে। চাঁদে পাঠানো সিসমোমিটার যন্ত্রে এই তথ্য ধরা পড়েছে। ফলে চাঁদে ‘বাড়ি’ বানানোর স্বপ্নে আপাতত জল।

আবারও সময় হয়েছে চাঁদের মাটিতে পা রাখার।

এই যন্ত্র থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং সাম্প্রতিক কিছু ছবি থেকে নাসা জানতে পেরেছে যে, অন্তত আটটি ভূমিকম্প চন্দ্রপৃষ্ঠ কুঁকড়ে যাওয়ার কারণেই হয়েছে। এ কারণে, গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ডের আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই গবেষণার অন্যতম লেখক এবং নাসার লুনার রিকনেসাঁ অরবিটার প্রোজেক্টের বিজ্ঞানী জন কেলার-এর মতে, প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য মিশনের তথ্য মিলিয়ে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করার জন্য এই গবেষণা সত্যিই চমকপ্রদ।’ আরও একবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর সময় হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, চাঁদের মাটি এবং ভূ-অভ্যন্তর ভাল করে পরীক্ষা করে দেখা দরকার। একটা বিষয় পরিষ্কার, ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ বসবাস করার পরিকল্পনায় বাগড়া দিচ্ছে অতিরিক্ত ভূমিকম্প।