নিউজপোল ডেস্ক: কর্মক্ষেত্রে সময় নিয়ে অভিযোগ প্রায় সবারই। বিশেষত ভারতীয়দের। কাজের ক্ষেত্রে যতটা কম সময় দেওয়া যায়, সেই সুযোগ খোঁজেন অধিকাংশই। কিন্তু নির্ধারিত সময় কাজ না করলে যদি কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হতো? আমরা ভাবতেই পারি না। অথচ কোরিয়ায় এমনই নিয়ম। তাছাড়া আইন বলবৎ করে সে দেশে কমানো হয়েছে কাজের সময়। আনন্দ পাওয়া তো দূরের কথা, সেই কারণে বরং ভেঙে পড়েছেন কোরিয়াবাসী। বিশ্বের সর্বাধিক কর্মক্ষম দেশগুলির সঙ্গে ভারতবর্ষের মানসিকতার ফারাক এখানেই।
কাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের সুসম্পর্ক রক্ষা করা অবশ্যই জরুরি। চীন ও জাপানের মতো দেশগুলিতে কাজ ও জীবনের ভারসাম্যের অভাব সম্পর্কে আমরা অল্পবিস্তর সবাই ওয়াকিবহাল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের দোহাই দিয়ে কাজের জায়গায় ফাঁকি মারার মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এদিকে গত বছরের আগে পর্যন্ত কোরিয়ার অফিসগুলিতে কাজের সময়সীমা ছিল সপ্তাহে ৬২ ঘণ্টা। যা কমিয়ে ৫৮ ঘণ্টা করা হয়েছে। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছে কোরিয়া সরকার এবং এই পরিবর্তনে যে দেশবাসীর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেই বিষয়ে আশাবাদী ছিল তারা। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। কাজের সময় কমে গেল বলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কোরিয়াবাসীর কপালে। এই কারণেই বোধহয় কঠোর পরিশ্রমের নিরিখে বিশ্বের মধ্যে তিন নম্বর স্থান দখল করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
একই মহাদেশের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চিত্র। কোরিয়া ও ভারত। ওরা এবং আমরা। কোরিয়াবাসী এতটাই কর্মঠ যে, শ্রম আইন কর্তৃক নির্ধারিত সময় যদি কেউ অমান্য করেন, তাহলে সেই কর্মীকে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হয়। তা না হলে দু’বছর জেলও খাটতে হতে পারে। সত্যিই তো, আইন লঙ্ঘন করে লুকিয়ে চুরিয়ে যদিও বা বেশি কাজ করলেন, তাও আবার জেল-জরিমানার খাঁড়া মাথার ওপরে। চিন্তা হয় বৈকি!