নিউজপোল ডেস্ক: গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ইস্টার হামলার পর পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের আয়ত্তে। নব্য ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী ন্যাশনাল থোওহিত জামাত-কে চিহ্নিত করার পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৬ জন সন্দেহভাজনকে। গত বছর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ কলম্বো-স্থিত এক পাকিস্তানি কূটনীতিবিদের প্রতি অভিযোগ তুলেছিল ভারতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলি দূতাবাসের ওপর হামলার পরিকল্পনার। ইস্টার হামলার এক সপ্তাহ আগেও ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগ আগাম সতর্ক করেছিল শ্রীলঙ্কাকে।
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংঘে জানিয়েছেন, তাঁরা ঘটনাটির সঙ্গে বিদেশি যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন। উপমহাদেশের সমস্ত দেশেই সন্ত্রাসবাদ একটি প্রত্যক্ষ সমস্যা। প্রতিবেশী দেশগুলির গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে তাঁরা যৌথভাবে কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন বিক্রমাসিংঘে। তবে স্বীকার করে নিচ্ছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের আঁচ শ্রীলঙ্কায় এবারই প্রথম। খবরে প্রকাশ যে দুই জঙ্গির অন্তত একজন পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাহলেও পাকিস্তানের সহযোগিতার কথা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করছেন বিক্রমাসিংঘে। এতে করে উপমহাদেশীয় দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
সাধারণভাবে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত মুসলিমরা শান্তিপ্রিয় হলেও ২০১২-২০১৪ সালের মধ্যে যে তাঁদের ওপর কিছু চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা মেনে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫র পর পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সম্প্রদায়ের নেতাদের। তবে মুসলমান বিরোধী হাওয়ার খানিকটা আঁচ যে শ্রীলঙ্কাতেও পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এদিকে, ভারতের সাহায্য ছাড়া যে উপমহাদেশে জঙ্গিদমন সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিক্রমাসিংঘে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। স্বভাবতই, শ্রীলঙ্কার নিকটতম প্রতিবেশী হওয়ায় ওই ঘটনার আঁচ ভারতের গায়েও লাগে। তবে শুধু তাই নয়, এর আগেও ভারত তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে।