নিউজপোল ডেস্ক: ছোট বড় যে কোনও সংক্রামক রোগ সারানোর জন্য আমাদের সবথেকে সরল সমাধান অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, রোগ নিরাময় করতে গিয়েই আমরা জন্ম দিয়ে ফেলেছি আরও বড় রোগের জীবাণু।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া গেছে, এমসিআর-৯ নামে একটি ব্যাক্টিরিয়াল জিন। এই জিন যে কোনও রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টিরিয়াকে কঠিন থেকে কঠিনতর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করার ক্ষমতা দিয়ে থাকে। যেমন কলিসিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক দারুণ কার্যকরী। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই কলিসিন অ্যান্টিবায়োটিককেও এমসিআর-৯ সহজেই প্রতিরোধ করে ফেলছে। অন্য কোনও অ্যান্টিবায়োটিক যখন কাজ করে না, তখন এই কলিসিন ব্যবহৃত হয়। শেষ পথ্য হিসেবে।
এর থেকেও বড় সমস্যার কথা হল, এই এমসিআর-৯ জিন অত্যন্ত অস্থির এবং গতিময়। অর্থাৎ, অ্যান্টিবায়োটিকের কর্মক্ষমতা নষ্ট করা এই জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে খুব সহজেই। কোনও হাসপাতালে যদি এই সংক্রামক জিন একবার হাওয়ায় মিশে যায়, তাহলে তা অচিরেই ছড়িয়ে পড়বে সেখানে উপস্থিত বাকি সকল মানুষের মধ্যে, জানাচ্ছেন প্রধান গবেষক মার্টিন উইডম্যান। তিনি আরও বলেন, কোনও রোগীর ক্ষেত্রে কলিসিন ব্যর্থ হলে তাঁর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী বলেই ধরে নেওয়া হয়। সংক্রমণ জিনিসটা এতই সাধারণ, যে প্রত্যেকেরই কোনও না কোনও সময় সেটা হয় থাকে। সুতরাং এই সংক্রামক জিন শরীরে প্রবেশ করলে, তুচ্ছ রোগকেও সে প্রভাবশালী এবং নিরাময়রোধী করে তুলতে পারে। কলিসিন বিরোধী এই জিন মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।
এই মুহূর্তে ক্ষীণ আশার আলো একটাই, যে এই জিন চিহ্নিত হয়েছে। কোনও অসুস্থ ব্যক্তির মধ্যে এটি প্রবেশ করলে পরীক্ষা করে নির্ধারণ করা যাবে। সেক্ষেত্রে তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এর প্রতিরোধ শিগগিরই আবিষ্কার না হলে যে সমূহ বিপদ, সেটা মেনে নিচ্ছেন সকলেই।