নিউজপোল ডেস্ক : বিদেশে থেকেও নিজের এলাকার করোনা পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিয়ে চলেছেন নিয়মিত। বুঝতে পারেন অক্সিজেনের চূড়ান্ত অভাব এখানে। আয়ারল্যান্ডে বসেই মধ্যমগ্রামে অক্সিজেন পার্লার করার কথা ভেবেছিলেন মৌমিতা পাল। আয়ারল্যান্ড থেকে তাঁর পাঠানো টাকায় মধ্যমগ্রামের দোলতলায় চার বেডের অক্সিজেন পার্লারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন মৌমিতার বাবা, মা সহ পরিবারের লোকজন। ভূমি কন্যার এই মানবিকতা নজর কেড়েছে মধ্যমগ্রামের মানুষের।

কয়েক বছর আগে ডিজিটাল ডিজাইনের উপর মাস্টার্স করতে আয়ারল্যান্ডে গিয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের বিধানপল্লীর মৌমিতা। পড়াশোনা করছিলেন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ গোলওয়েতে। পড়া শেষ করে আয়ারল্যান্ডের একটি নামী সংস্থায় বর্তমানে চাকরিও করছেন তিনি। কয়েক বছর দেশ ছাড়া। তবুও ভুলতে পারেনি নিজের শহর কে। আয়ারল্যান্ডে বসেই পরিবারের থেকে নিজের শহরের করোনা পরিস্থিতির খবর রাখতো।শুনতেন, আক্রান্ত দের অনেকেই অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে। এর পরেই সিদ্ধান্ত নেন অক্সিজেন পরিষেবা দেবেন তিনি।

চাকরির বেতনের একটা বড় অংশ পরিবারের কাছে পাঠান তিনি। মেয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবারের লোকজন এই বিষয়ে যোগাযোগ করেন মধ্যমগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে।তাদের প্রচেষ্টায় আয়ারল্যান্ডে কর্মরতা মৌমিতার পাঠানো ১লক্ষ টাকায় দোল তলায় একটি পার্লার খোলা হয়। এখানে আছে চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, একটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দুটি স্যানিটাইজ মেশিন এবং চারটি পালস অক্সিমিটার। এছাড়াও সর্বক্ষণের জন্য রয়েছে ডাক্তার, নার্স। মৌমিতার এই উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকটি ক্লাব এবং সামাজিক সংগঠনও এগিয়ে এসেছে। করোনা আক্রান্ত দের শ্বাসকষ্ট রয়েছে। অথচ ভর্তি হওয়ার মতো বেড পাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে এই অক্সিজেন পার্লারে এসে সম্পূর্ন বিনামূল্যে অক্সিজেন পরিষেবা পেতে পারেন সাধারণ মানুষ।