কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সারা ভারতে অতি সুপরিচিত একটি নাম।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে এমনকি বাইরের রাজ্য থেকেও পড়ুয়ারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য কলকাতা ছুটে আসে।

ঠিক যতটা আগ্রহ নিয়ে ভর্তি হয় পড়ুয়ারা, ঠিক ততটাই যেন হাঁপিয়ে ওঠে তারা দিনদিন ভার্সিটির চাপে।

পড়ুয়াদের কাছে ‘বাঁশঝাড়’ আখ্যা বহুকাল আগেই পেয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনা আবহে ২০২০ সালের মার্চ থেকেই কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ১৬০টি কলেজে চলছে অনলাইন ক্লাস। সেই সঙ্গে চলছে অনলাইনে পরীক্ষাও।

২০২০ সালে ইউজিসি নতুন শিক্ষাবর্ষ ঘোষণা করেছিল। সেই শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী এক বছরে দুটি সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে হবে পড়ুয়াদের।

একটি মার্চ মাসে এবং অপরটি আগষ্ট মাসে। সেই অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসে দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা।

১৫ই জুলাই মধ্যরাতে হঠাৎই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এরপরই তৈরি হয় সমস্যা।

দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে একইদিনে দুটি করে অনার্স পেপারের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

একটি সকাল ১০টা থেকে ১টা এবং অপরটি সেইদিনই দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

অনলাইনে পরীক্ষার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের পরীক্ষার পর লেখার প্রতিটি পৃষ্ঠার ছবি তুলে সেগুলিকে পরপর স্ক্যান করে সাজিয়ে একটি পিডিএফ তৈরি করে নিজের কলেজের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হয় বা

নিজের কলেজের নির্দিষ্ট ইমেলে পিডিএফটি পাঠাতে হয়। এটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

অপরদিকে, ১টা অবধি পরীক্ষার পর পিডিএফ স্ক্যান করে পাঠিয়ে আবার দুপুর ২টো থেকে আরেকটি পরীক্ষা শুরু হলে, পরীক্ষার্থীরা দুপুরের খাবারটুকু খাওয়ারও সময় পাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অমানবিক আচরণে হতাশ সকল পরীক্ষার্থীই। আজ, ১৫ই জুলাই সকাল থেকে ফেসবুকে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড হয় #change_the_schedule_CU।

ফেসবুকে পোষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তারা এক দিনে একটি করে পরীক্ষা নেওয়ার আবেদন জানায়। যদিও এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষার্থীদের এই আর্জি আদৌ বিশ্ববিদ্যালয় শুনবে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে আছে এখন কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী।