গতকাল হলদিয়ায় কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প চালু না করা নিয়ে রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর আজ কেন্দ্রকেই পাল্টা দোষারোপ করলেন মমতা ব্যানার্জী।

কাল হলদিয়ায় এসে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শুধুমাত্র তৃণমূল সরকারের রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’, ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র মতো জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যবাসী পাননি। আজ রাজ্য বিধানসভায় মোদির সেই কটাক্ষের জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘ রাজ্যের কৃষকদের সাথে প্রতারণা করে মিথ্যা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটের আগে হঠাত বাংলার কথা মনে পড়েছে কেন্দ্রের।’ রবিবার হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষক কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার আওতায় হাজার হাজার কোটি টাকা পেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলার কৃষকরাও থাকতে পারতেন। কিন্তু এখানকার একজন কৃষকও এই সুবিধা পাননি। রাজ্য সরকার এই যোজনায় যুক্ত হয়নি। কয়েকদিন আগে কেন্দ্রকে সম্মতি জানিয়ে চিঠি লিখেছে রাজ্য। কারণ, বাংলার মানুষ ওদের সরিয়ে দেবে এটা ওরা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু এই রাজ্য সরকার চায় না সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা যাক। ইতিমধ্যেই বাংলার ২২ লক্ষ কৃষক রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৬ হাজার কৃষকের নাম এঁরা জমা দিয়েছে। সেই ৬ হাজার কৃষকেরও ব্যাংক ডিটেল কেন্দ্রকে এখনও দেয়নি রাজ্য সরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করে আজ মুখ্যমন্ত্রী বললেন,”নরেন্দ্র মোদি বলছেন, আমরা কৃষকদের তালিকা দিচ্ছি না। ওঁরা যে ৬ হাজার টাকা দেয়, সে তো একরে। আমরা এক কাঠা থাকলেও দিই। আমরা চেয়েছিলাম সার্ভে হোক। বারবার কেন্দ্রকে বলছি তথ্য দাও। এতদিন পর তথ্য দিল। তাও আবার ওদের পোর্টালে দিয়েছে। বলছে ২২ লক্ষ রেজিষ্টার করেছে। আমাদের এখন বলছে ভেরিফাই করে দিতে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের মাত্র ৬ লক্ষের তথ্য দিয়েছে। আমরা তার মধ্যে আড়াই লক্ষ করে দিয়েছি। দাও তোমরা টাকা। আমি চাই ভাগচাষী ক্ষেতমজদুরদেরও দেওয়া হোক টাকা। এই সরকার আসলে বাংলার কৃষকদের কথা ভাবেই না। এত নির্দয় কেন্দ্রের সরকার দেখিনি। রাজ্যের প্রাপ্য কিছুই দিচ্ছে না। এখন বাংলায় নির্বাচন বলে বাংলা ওদের টার্গেট। ভোটের সময় বাংলা প্রীতি হয়েছে।”