‌নিউজপোল ডেস্ক:‌ একেই বলে প্রতিশোধ!‌ গত সেপ্টেম্বরে রাটলস্নেকের ছোবল খেয়েছিলেন বব হান্সলার। দিনকতক হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছিল তাঁকে। সেরে উঠেই প্রতিশোধ নিতে উঠে পড়ে লেগেছেন বব। তবে একটু অন্যভাবে। রাটলস্নেক ধরে ছাল ছাড়িয়ে সেটা রান্না করে খেয়ে নেন বব। আর এই সাপ দিয়ে নিত্যনতুন রেসিপি তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করেন তিনি। শেখান, কী করে রান্না করতে হয় এই বিষধর সাপটিকে। ববের অভিনব এই রান্না শেখানোর ক্লাসের ভিডিওগুলি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়। মাত্র দু’‌মাসে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার সাবসক্রাইবার হয়ে গিয়েছে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে। ববের দাবি, ঠিকমতো সাবধানতা অবলম্বন করলে এই সাপের মাংস খেলে কোনও ক্ষতিই হয় না। বরং অত্যন্ত সুস্বাদু!‌ এক একটা ভিডিও–র ভিউ প্রায় পাঁচ লক্ষ!‌
টেক্সাসের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে প্রায়শই মরুভূমিতে বেড়াতে যান বব। সেরকমই একবার বেড়াতে গিয়ে ছোবল খেয়েছিলেন তিনি। তবে আগে তিনি যেতেন শুধু মরুভূমির ছবি তুলতে। এবার সঙ্গে ক্যামেরা তো থাকেই আরও থাকে রান্নার সরঞ্জাম। স্টোভ, বাসন, তেল, মশলা— কী থাকে না তাঁর ঝুলিতে!‌
ঠিক কী ধরনের রান্না করেন?‌ সেটাও জানিয়েছেন বব। তিনি বলেছেন, ‘‌এই ধরনের সাপের মাংস সবথেকে ভাল লাগে দুধ আর ডিমের মিশ্রণের সঙ্গে। এই মিশ্রণে মাংস ফেলে সেটাকে কম আঁচে সিদ্ধ হতে দিতে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চামড়া ভাল করে ছাড়িয়ে নেওয়া খুবই দরকারি। আর সাপের লেজের যে অংশে হাড় শক্ত হয়ে যায়, সেই অংশটাও খাওয়া চলে না। তার বাইরে এই সাপ খুবই সুস্বাদু।’‌
ববের এই সাপ রান্নার নেশার কথা জেনে গিয়েছেন অনেকেই। বব বলেছেন, ‘‌কয়েকদিন আগেই আমার এক প্রতিবেশীর বাগানে একটা রাটল স্নেক ঢুকে পড়েছিল। ওদের পোষা কুকুর ওটাকে কামড়ে মেরে ফেলে। আমার প্রতিবেশীরা সেই সাপটা নিয়ে এসেছিলেন আমার জন্যই। আমি সেটা রান্না করে খেয়েছি। তবে আমার প্রতিবেশীরা কেউই সেটা খেতে রাজি হননি।’‌
তবে ববের এহেন কর্মকাণ্ডে বেজায় চটেছেন পশুপ্রেমীরা। তাঁেদর বক্তব্য, বব মানসিকভাবে অসুস্থ। না হলে মরুভূমিকে ঢুকে কেউ সাপ মেরে রান্না করে খায়!‌ বব অবশ্য সে সব কথায় কান দিচ্ছেন না। তাঁর দাবি, ‘‌বাস্তুতন্ত্রের সাধারণ খাদ্যচক্র মেনেই সাপ খাচ্ছি। এটাও প্রাকৃতিক নিয়মের একটা অংশ।’‌ শুধু সাপেই থেমে থাকবেন না তিনি। আইনগত জটিলতা না থাকলে এরপরে ঘড়িয়ালের মাংস রান্না করতে চান তিনি।