বাঁশ চাষ ত্রিপুরার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলার একটি বড় অংশ জুড়ে বাঁশ চাষ করা হয়।

যে বিপুল পরিমাণ বাঁশ উৎপাদন করা হয় তা দিয়ে তৈরি হয় নানা হস্তশিল্প।

ত্রিপুরায় বাঁশ দিয়ে তৈরি এই হস্তশিল্পের কদর ত্রিপুরাতে তো আছেই, এছাড়াও অন্যান্য রাজ্যেও এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

ত্রিপুরার এই বৈশিষ্ট্যকে লোকসমাজে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে নেওয়া হলো এই উদ্যোগ।

তাই, বাঁশজাত নানা পণ্য এবং বাঁশশিল্পীদের আরও উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে ত্রিপুরায় এই বছর থেকে শুরু হবে ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’ পালন করা।

বিগত বছরগুলোর মত এবারও সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ ও ১৯ তারিখ দু’দিন করে পালন করা হবে এই ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’,এমনটাই জানিয়েছে ত্রিপুরা সরকার।

গোটা ভারতে প্রায় একশো চল্লিশ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতেই প্রায় বিরানব্বই প্রজাতির বাঁশ জন্মায়।

আর কেবল ত্রিপুরা রাজ্যেই প্রায় ৩২৪৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে একুশ প্রজাতির বাঁশ জন্মায়।

সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি মিলিয়ে যা বাঁশ উৎপাদন হয়, তার দুই তৃতীয়াংশই উৎপাদিত হয় ত্রিপুরায়।

সাধারণ মানুষের জীবিকা সম্প্রসারণ করার চেষ্টায় বন গবেষণা কেন্দ্র ত্রিপুরা রাজ্যের বাঁশ শিল্পের উন্নয়নের জন্য আরও কাজ করছে বলে জানা গেছে।

বাঁশ থেকে আরও নতুন কী কী তৈরি করা যায় তা নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছে বন গবেষণা কেন্দ্র।

ত্রিপুরায় ‘Bamboo Mission’ – রের ডিরেক্টর
তড়িৎকান্তি চাকমা জানিয়েছেন,

এই বছর ১২তম ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’ ১৮ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর আগরতলায় পালন করা হবে বলে সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগরতলায় এই দিবস পালন অনুষ্ঠানে কেবল ত্রিপুরার বাঁশ শিল্পীরা নয়,

দেশের ২০টি রাজ্য থেকে বাঁশ শিল্পীরা আসবে।

এছাড়াও বিভিন্ন বাইরের দেশের বাঁশ শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করবে এই উৎসবে।

ত্রিপুরা তথা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে কীভাবে আরও বাঁশ শিল্পের উন্নতি করা যায়

সেই লক্ষ‍্য নিয়েই বিভিন্ন আলোচনার আয়োজন করা হবে এই উৎসবে।

এই বছর এই ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে PHD Chamber of Commerce and Industry।

এই উৎসবের জন্য তারা ৪০ লক্ষ্য টাকা বরাদ্দ করেছে বলে সূত্রের খবর।