গত পনেরো বছরে ভারতে বন্যা,ঘূর্ণিঝড়,খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব অনেকটাই বেড়েছে। আগাম সতর্কতা ছাড়াই অনেক সময়ে এসেছে দুর্যোগ।প্রকৃতি বিশেষজ্ঞরাও আঁচ করতে পারেননি আগে থেকে। সম্প্রতি কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভারমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার থেকে প্রকাশিত রিপোর্ট কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলল। রিপোর্টে কাউন্সিল ব্যাখ্যা করেছে কীভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ বেড়ে চলেছে গত কয়েক বছরে। তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের ৭৫ শতাংশ অঞ্চল নানারকম দুর্যোগের কেন্দ্র এবং এটি আরো বাড়তে পারে। রিপোর্টে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি তার চরিত্র বদলেরও উল্লেখ করেছে কাউন্সিল। অর্থাৎ কিছু অঞ্চল খরার জন্য কুখ্যাত ছিল, সেই অঞ্চলগুলোতে হঠাৎ বন্যা শুরু হয়েছে। আবার বন্যা কবলিত অঞ্চলে বন্যা না হয়ে খরা হচ্ছে। ফলে ওই অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের জীবনযাপন করতে সমস্যা হচ্ছে।গত পনেরো বছরে বেড়েছে বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপও।

রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ১৯৭০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত, ৩৫ বছরে ভারতে ২৫০ টি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে। আর ২০০৫ সাল থেকে গত ১৫ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৩১০। ২০১৯ মোট ১৬টি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে সারা দেশে! এতগুলো বিপর্যয় আগে কোনো বছর হয়নি। ২০২০ সালেও আসামে বন্যা, পশ্চিমবঙ্গে আমফানের মতো ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছে। জলবায়ু খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আশঙ্কা বাড়ছে। প্রকৃতির কাছে মানুষ আদিকাল থেকেই অসহায়, ফলে আশঙ্কা করা ছাড়া মানুষের আর কিছুই করার নেই।