জগদীশ চন্দ্র বসু উদ্ভিদ বিষয়ক একটি বই লিখেছিলেন,নাম ছিলো ‘অব্যক্ত’,তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বর্ধমানের তৌসিফ হকের নার্সারীর মধ্য দিয়ে। ‘অব্যক্ত’ সত্যিই যেন গাছেদের ঠিকানা,আর এই ঠিকানায় পৌছানোর পথপ্রদর্শকটির নাম ‘তৌসিফ হক’। বর্ধমান নিবাসী তৌসিফের বরাবরই শখ একটা নিজের হাতে তৈরী বাগানবাড়ির।মায়ের থেকেই তার এই শখের হাতেখড়ি। কর্মসূত্রে তা আর করা হয়ে ওঠেনি তৌসিফের। কিন্তু শখের ভূত যেন ঘাড় থেকে নামতেই চায়না,পরবর্তী দুবছর ধরে নিজের হাতে গড়ে ফেললেন ছাদবাগান, এতদিন ধরে তারই পরিচর্যা করেছেন,খেয়াল রেখেছেন।বর্তমানে তার মাথায় খেলে গেল একটা অভিনব পন্থা,ব্যবসায়িক কথা মাথায় রেখে মানুষের স্বার্থে মানুষকে যদি দৃষ্টিনন্দন কিছু দেওয়া যেতে পারে, তাহলে কেমন হয়! নিজের হাতে গড়া নার্সারী ঘুরে দেখার পাশাপাশি সুন্দর একটা ডেকোরেশন, সবুজের ঘনঘটা, অন্ধকারে আলোর রোশনাই, চোখজোড়ানো দেওয়াল অঙ্কনের কারুকার্য – যেন একটা সিনেম্যাটিক এম্বিয়েন্স, সব মিলিয়েই শুরু অব্যক্তের এই হালখাতা। এই অব্যক্ত নিয়ে আমি যোগাযোগ করেছিলাম তৌসিফ হকের সাথে।

রইলো তৌসিফ হকের কিছু বক্তব্য-

শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় – কীভাবে শুরু করলে?
তৌসিফ হক – লকডাউনের বাজারে শুধুমাত্র যে একটা নার্সারী করবো এরকম কিছু ভাবিনি, গাছেদের সমস্ত রেমিডিস পাওয়া যাবে কিন্তু জায়গাটায় মানুষ আসবে,গাছ কিনবে আর চলে যাবে এরকম যেন না হয়।মানুষ ঘুরেঘুরে দেখবে,গাছ না কিনলেও বসে কিছুটা আড্ডা দেবে,যেন একটা ভালোলাগার পরিবেশ তৈরী হয়।

শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় -কারা কারা এগিয়ে এসেছেন?নাকি পুরোটাই একার হাতে?
তৌসিফ হক- আমার এই কাজে আমায় সাহায্য করেছে,উৎসাহ যুগিয়েছে আমার দুই ভাই রুশো রায়চৌধুরী ও অণির্বান রায় চৌধুরী।তাছাড়াও রয়েছে আশিক আলম।আর ভিডিও তুলেছে দেবার্ঘ্য দত্ত।

শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় – কিভাবে কাজ চলছে তোমাদের?
তৌসিফ হক – নার্সারীর দেওয়ালগুলো সব হাতে আঁকা রয়েছে,ঝুড়ি দিয়ে লাইটিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করেছি,গাছের উপর বাংলার প্রচীন শিল্পকলার নিদর্শন রয়েছে,আগের দিনে ঢিল ঝুলিয়ে অনেকে মানত করত,আমরাও সেটা অবলম্বন করেছি,একটা পুকুর করছি ছোট্ট,সেখানে শাপলা-পদ্ম এই সমস্ত থাকবে।সোজাভাবে বলতে গেলে খুব সহজ-সরল ভাবে সাজানোর চেষ্টা করেছি মাত্র।

শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় – মানুষের ফিডব্যাক কেমন?
তৌসিফ হক- সাধারণ মানুষের ফিডব্যাক খুবই ভালো,বহু মানুষ আমায় মেসেঞ্জারে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাচ্ছেন,বিশদে জানতে চাইছেন।

শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়- তোমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি রয়েছে?
তৌসিফ হক- ১৫ তারিখে এটার উদ্ভোদনের কথা রয়েছে,এর সাথে আমাদের মূল কাজ রয়েছে একটা রিডিং টেবিল করা,যাতে মানুষ সেখানে বসে বইপত্র পড়তে পারে,সেখানে নানা রকমেরই বইও থাকবে,একটা আর্ট গ্যালারির মতো করছি,সেখানে বিভিন্ন শিল্পীদের আঁকা প্রজেকশন এর ব্যবস্থাও করছি।আর মূলত জগদীশ চন্দ্রের একটা পোট্রের্ট থাকবে সেখানে।ব্যবসায়িক বিষয়টা তো আছেই, কিন্তু শুধু ব্যবসায়িক দিকটা চরিতার্থ করা মূল উদ্দেশ্য নয়,আমরা এটাও প্ল্যান করেছি ক্যুরিয়ারে গাছ পাঠাবো,বর্ধমান শহরের মধ্যে কেউ গাছ,টব,সার হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার দিলে আমরা হোম-ডেলিভারি করছি,শুধু তাই হয় তিনমাস পর আমরা কল করে গাছটার পরিচর্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছি,গাছ দিয়েই দায়সারা হয়ে যাবো না,গাছ সংক্রান্ত যে কোন রকম সম্যসার সমাধান করার চেষ্টা করছি।

করোনার অতিমারির প্রভাব সমগ্র দেশে এখনো ছড়িয়ে রয়েছে,পশ্চিমবঙ্গ এর ব্যতিক্রম নয়।কিন্তু এই অতিমারিতেও স্বস্তির নিঃশ্বাস জোগাচ্ছে তৌসিফের গাছেদের ঠিকানা।প্যান্ডেমিকে মানুষ ভালো থাকতে ভুলে গেছে,মনের মধ্যে জমা রয়েছে হতাশার মেঘ, তাহলে ঘুরে আসুন তৌসিফ হকের বাগানবাড়ি, সবুজায়নে ঘেরা এই শান্তির পরিবেশ দেখেলে আপনার মনের মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়তে বধ্যপরিকর।