দেবাঞ্জন দেবের ভুয়ো ভ্যাকসিন কান্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিচলিত হয়ে রয়েছে রাজ্যের সাধারণ মানুষও।

বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এবং পাশাপাশি সিপিএম উভয়েই আঙ্গুল তুলেছে শাসকদল তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে।

বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ মিছিল করে কেন্দ্রের তদন্ত দাবী করেছিল।

গত দু’দিন ধরেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল যে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি এই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব নিতে পারে।

গতকাল ইডির প্রধান দফতর থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। তাই এবার এই মামলার সমস্ত দায়িত্বভার নিতে চলেছে ইডি।

ইডি সূত্রে খবর, ইসিআইআর রুজু করে দেবাঞ্জন দেবকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন তাঁরা জানাবে আদালতের কাছে। পাশাপাশি,এই ভুয়ো ভ্যাকসিনকাণ্ডে কেউ জামিনের আবেদন করেছেন কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।

এর পাশাপাশি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় কলকাতায় রেমডেসিভির ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারির বিষয়টি নিয়েও আজই ECIR করতে চলেছে ইডি।

কসবার এই ভুয়ো ভ্যাকসিনকাণ্ড নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ভার্চুয়াল বৈঠক করে ইডি।

ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তের পর তাদের সন্দেহ, দেবাঞ্জন দেব বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন করেছেন।

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ইডির অনুমান। কারণ যেসব জায়গায় দেবাঞ্জন গিয়েছে, সেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তা না থাকলে পৌঁছানো যায় না।

এই সপ্তাহেই  ইডি সূত্রে জানা যায়, কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে তাঁদের রুজু করা চারটি মামলার তথ্য তারা হাতে পেয়েছে।

সেইসব তথ্য ইতিমধ্যে ইডির প্রধান দফতর দিল্লি অফিসে পাঠানো হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।

পুলিশ সূত্রে খবর, নকল ভ্যাকসিকাণ্ডে জড়িত দু’জনের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। বুধবার ভুয়ো আইএএস দেবাঞ্জন দেবের পুলিশ হেফাজত শেষ হয়।

আদালতে দেবাঞ্জনের আইনজীবী বলেন যে ভুয়ো ক্যাম্প থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে কেউ অসুস্থ হননি তাই জামিনের আর্জি জানান তিনি।

আদালতে দেবাঞ্জনের জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী।

মামলার শুনানিতে ভুয়ো আইএএস  দেবাঞ্জনকে আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আলিপুর আদালত।