নবান্ন অভিযানে পুলিশি ‘অত্যাচারের’ প্রতিবাদে শুক্রবার ১২ ঘণ্টা বাংলা বনধের ডাক বামপন্থীদের। রাজ্যের সর্বত্র ধিক্কার দিবস পালন করবে বামফ্রন্ট। বামেদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন জানাল কংগ্রেসও। সাধারণ মানুষকে বনধ সফলের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

শূন্যপদ পূরণ, সকলের জন্য খাদ্য, শিক্ষা-সহ একাধিক দাবিতে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নবান্ন অভিযানের শুরুতেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় আজ। দিনের শুরুতেই আচমকা একেবারে নবান্নের সামনে চলে আসেন সিপিএম বিধায়ক তথা বাম ছাত্র নেতা ইব্রাহিম আলি। ইব্রাহিম-সহ ৫ জনকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হলে তখনও স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তাপ ও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন দিক থেকে নবান্নমুখী মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চান বাম ছাত্র,যুবরা। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ধর্মতলা চত্বর। প্রায় চার হাজার সদস্য নবান্নের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ প্রথমে জলকামান, টিয়ার গ্যাস এরপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ চলে। অনেকে আহত হন,অসুস্থ হন,রক্তাক্ত হন। গুরুতর জখমদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট ক্ষিপ্ত বাম নেতৃত্ব। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহম্মদ সেলিম সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে বললেন, ”নির্মমভাবে আমাদের তরুণ কর্মীদের মারধর করেছে পুলিশ। কেন এমনটা হবে? পুলিশ যে অত্যাচারীর ভূমিকা নিয়েছে, তা নিন্দনীয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বন্‌ধ ডাকা হয়েছে বাম সংগঠনগুলির তরফে।” আরএসপির মনোজ ভট্টাচার্য বিবিৃতি দিয়ে জানান, ”আজ ১১ ফেব্রুয়ারি বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনগুলির পূর্ব নির্ধারিত নবান্ন অভিযানে রাজ‍্যের ছাত্র-যুবরা শান্তি পূর্ণভাবে নবান্নে মুখ‍্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ নৃশংসতার সঙ্গে মিছিলের ওপর আক্রমণ করে। নির্বিচারে লাঠি, টিয়ার গ‍্যাস ও জলকামান ব‍্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এক চরম স্বৈরাচারী শাসকের একান্ত বিকৃত মনোবাসনা পূরণের কুৎসিত আয়োজন। আমরা তৃণমূল সরকারের এই চরম অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা করছি‌। এই আক্রমণের বিরুদ্ধে দুর্বার গণ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। রাজ‍্য বামফ্রন্ট আগামিকাল রাজ‍্যের সর্বত্র ধিক্কার দিবস পালন ও ১২ ঘন্টার হরতালের ডাক দিয়েছে‌। এই হরতাল সফল করতে উদ‍্যোগ গ্রহণ করুন‌।”