নিউজপোল ডেস্ক: এক সময় খুনখারাপি, তোলাবাজি করে দিন কাটত। অতীতের বন্দুক ধরা সেই হাতগুলোই এখন কোদাল–বেলচা দিয়ে মাটি কোপায়। গাছ লাগায়। তাতে বিঘার পর বিঘা রুখাসুখা জমি আজ জঙ্গল। আর সেই জঙ্গিরা জঙ্গলরক্ষক।
বেশিদূর নয়। ভুটান, অসম আর অরুণাচলপ্রদেশের সংযোগস্থলে আজকের ভৈরবকুণ্ড অভয়ারণ্য। গুয়াহাটি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে উদলগিরি জেলায়। বন্ধ্যা হয়ে ৪০ বছর ধরে পড়েছিল। ভোল পাল্টে দিলেন সেই ‘‌জঙ্গি’‌রা। বন্দুক ছেড়ে হাতে চারাগাছ তুলে নিলেন, গোলাগুলির বদলে ভাবতে শুরু করলেন বাস্তুতন্ত্র রক্ষার কথা। পরিবেশ উন্নয়নের কথা! প্রায় ১০ বছরের প্রচেষ্টায় তাঁরা গড়ে তুললেন আস্ত একটা জঙ্গল।
মানুষের হাতযশ। তাতেই টান পড়ল বনভূমিতে। টান পড়ল বন্যদের খাবারে, থাকার জায়গায়। খিদের জ্বালায় বন্যপ্রাণীরা বন ছেড়ে লোকালয়ের দিকে যেতে শুরু করলো। নষ্ট হতে বসল পরিবেশের ভারসাম্য। বিষয়টি ওই প্রাক্তন জঙ্গিদের ভাবায়। ৩৫ জনের দলটি, সোনাইগাঁও মাল্টিপারপাস ফার্ম বনভূমি নির্মাণ শুরু করেন। তাদের প্রধান ইসমাইল দইমারি।
২০০৩ সালে ইসমাইলের নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান। ৫০ বছরের জন্য ইজারা নেওয়ার আবেদন নিয়ে নবকুমার বরদোলুই নামে ভৈরবকুণ্ড রিজার্ভ ফরেস্ট-এর রেঞ্জ অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উদ্দেশ্য বনসৃজন। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক বিষয়টি খতিয়ে দেখে। সিদ্ধান্ত হয়, অভয়ারণ্য থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৫০ শতাংশ রাজ্য সরকারের তহবিলে যাবে। এই চুক্তির ভিত্তিতে ৩-৪ বছরের মধ্যে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যার কাজ শুরু করে দেয় ৩৫ জন সদস্যের জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি। তাঁদের ১০ বছরের চেষ্টায় গড়ে ওঠে ভৈরবকুণ্ড রিজার্ভ ফরেস্ট।
১০-১৫ বছর আগের সেই পরিত্যক্ত জমি এখন দেখে চেনা যাবে না। সারি সারি রবার গাছের সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। সেখানে আস্তানা চিতা, হাতি, হরিণ এবং পরিযায়ী পাখিদের। দেখতে ছুটে আসেন সারা দেশ থেকে বহু পর্যটক। গাছে জল দেওয়ার জন্য খালও নির্মাণ করেছেন তাঁরা, যা নিকটবর্তী নদীর সঙ্গে যুক্ত।
কম পুঁজি দিয়ে তৈরি হয়েছিল যে উদ্যোগ, আজ তা সম্পূর্ণ সফল। কিন্তু তা বলে থেমে থাকা চলে না। পরিবেশ নিয়ে আরও উন্নয়নমূলক কাজ করতে চায় এই দল। তাই অন্যান্য সংস্থা ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও জঙ্গল তৈরিই আপাতত উদ্দেশ্য এই ‘‌জঙ্গি’‌দের।‌‌