mukul
mukulmukul

আমের সিজিন আসার আগেই আম গাছে মুকুল ধরে

সাধারণত বলা হয় আমের সিজিন আসার আগেই আম গাছে মুকুল ধরে, কিন্তু আমের সিজিন প্রায় শেষ হতে চলল আমের আটি যখন সবাই ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে ঠিক তখনই তৃণমূল শিবিরে মুকুলের নতুন করে আশাকে নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বাংলায় প্রবাদ আছে সিজনের ফল সিজিন মিষ্টি লাগে কিন্তু যখন খারাপ সময় তৃণমূলের ছিল তখন তৃণমূল দল ছেড়ে অনেকে বিজেপির যোগদান করেছিল মুকুল।

আর 2021 নির্বাচনে সমস্ত সমস্যাকে পিছনে ফেলে একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর হাত ধরেই রাজ্যের মসনদ দখল করেছিল তৃণমূল। তৃণমূলের ভালো সময়ে মুকুল রায় কে নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গতকাল তৃণমূল ভবনে মমতা ব্যানার্জি অভিষেক ব্যানার্জীর উপস্থিতিতে মুকুল রায়, সপুত্র শুভ্রাংশু রায় তৃণমূলে পুনরায় যোগদান করেন। আর এই যোগদান কে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে চলছে চাপা ক্ষোভ, নিচু তলার কর্মীরা প্রকাশ্যে না বলতে পারলেও তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং ফিরহাদ হাকিম বক্তব্য পরিষ্কার করে দিয়েছে এক প্রকার চার বছর আগে চলে যাওয়া মুকুল রায় ফেরত আসা নিয়ে।

প্রকাশ্যে অনুব্রত মণ্ডল বলেই ফেললেন গরু দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে পড়েছিল

আবার খুঁটিতে এনে বাধা হল, অপরদিকে ফিরহাদ হাকিম বলেন সকালের ভোলা বিকেলে ঘরে ফিরলে ভালো। অপরদিকে মুখ বন্ধ রাখতে পিছপা হননি নতুন রাজনীতিতে আশা কৌশানী মুখার্জী সরাসরি অভিযোগ না করলেও প্রচার না করে মুকুল রায় কিভাবে জিতে গেল তা নিয়ে এক প্রকার চাপা ক্ষোভ উগরে দিলেন কৌশানি।

গাদ্দার কে দলে নেওয়া যাবে না

অপরদিকে আজ ডোমজুড়ে নাম না করে গাদ্দার কে দলে নেওয়া যাবে না বলে এক প্রকার রাজিব ব্যানার্জি কে আক্রমণ করল তৃণমূল শিবির। পোস্টারে লেখা হয় বাংলার মীরজাফর গাদ্দার বেইমানদের কোন ঠাই নেই নাম না করলেও পোস্টার থেকে দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং যুবরাজ অভিষেক ব্যানার্জির কাছে দলের কর্মীদের আবেদন অনুযায়ী সেচ দপ্তর তদন্ত কমিটি বানিয়ে গাদ্দারদের অবিলম্বে শাস্তি চাই, এই পোস্টটার থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় মুকুল রায় নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বলতে চাইলেও তৃণমূল কর্মীরা রাজিব ব্যানার্জি কে অস্ত্র বানিয়ে মুকুল রায়ের যোগদানের এক প্রতিবাদ জানাচ্ছে তৃণমূল শিবির ।

এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক মহলের ধারণা যেহেতু কালকে মমতা ব্যানার্জি মুকুল রায়ের পাশে থেকে মুকুল রায় কে দলে নিয়ে মুকুল রায়ের হয়ে যে সাফাই গাইলেন তা দলের জন্য যথেষ্ট নয়,

বিশেষজ্ঞদের মতে

যে নেত্রী বা সুপ্রিমো কিছুদিন আগে কোর কমিটির বৈঠকে এবং ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিরোধী কোনো কথাবার্তা প্রকাশ্যে না বলতে পরামর্শ দিলেও মুকুল রায়ের যোগদানের পর একের পর এক ঘটনা দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার নমুনা বলে মনে হয়। আজ সব্যসাচী নিয়ে সুজিত বসুর মন্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় দল থেকে চলে যাওয়া নেতাদের পুনরায় দলে ফেরা নিয়ে শুধু যে কর্মীদের ক্ষোভ সামনে আসছে তা নয় মমতার অসময়ের বা তৃণমূলের খারাপ সময়ের সঙ্গীরাও খুশি নয়।

আমের পরে মুকুল নিয়ে এখন দেখার বিষয় এটা দল ছেড়ে চলে যাওয়া সব গাদ্দার এবং বেইমানদের তৃণমূল কি ফিরিয়ে নেবে না শুরুতেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তৃণমূল শিবিরকে নতুন করে ভাবাবে। শুধু বিরোধী আক্রমণ নয় দলের অন্দরে ক্ষোভ বন্ধ করতে সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল শিবির সেটাই এখন দেখার।