সম্প্রতি রদবদল ঘটেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায়। সেই বদলের জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়েছে বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরীর নাম।

বাবুল সুপ্রিয়র সেই ক্ষোভ প্রকাশ পেল আজ।

আজ, শনিবার, ফেসবুকে পোষ্ট করে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি ছেড়েছেন মানে তিনি অন্য কোনো দলে যোগ দিচ্ছেন এমনটা কোনোভাবেই নয়।

অন্য কোনো দল থেকে তাঁর কাছে ডাক আসেওনি আর তিনিও যেতে ইচ্ছুক নন, এমন কথাই জানিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়।

প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়, “সমাজসেবার কাজ করতে হলে, মানুষের ভালো করতে হলে কোনও দলে থাকতে হয় না।

তাই পরিবারের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

২০১৪ ও ২০১৯ দু’বারের লোকসভা ভোটেই বিরাট ব্যবধানে আসানসোল থেকে যেতেন বাবুল সুপ্রিয়।

সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি দু’বারই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর পদ পান তিনি।

পূর্ণমন্ত্রী হয়ে ওঠা তাঁর আর হলো না।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে গুটি কতক বিজেপি সাংসদকে দাঁড় করানো হয়েছিল প্রার্থী হিসেবে।

সেই তালিকায় নাম ছিল বাবুল সুপ্রিয়র। টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস এবং

সিপিএমের দেবদূত ঘোষের বিপক্ষে বিজেপির তরফ থেকে দাঁড়িয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়।

কিন্তু অরূপ বিশ্বাসের কাছে বেশ বড়ো ব্যবধানে পরাজিত হন আসানসোলের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ।

হয়ত তার জেরেই মন্ত্রীত্ব খোয়ান তিনি, এমন মত প্রকাশ করেছেন জনগনের একাংশ।

তার পর থেকেই বাবুলকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা।

আজ সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ছাড়লেন তিনি।

তবে কেবল মন্ত্রিত্ব ছাড়া নিয়েই নয়, একাধিক বিষয় নিয়ে দলের সঙ্গে তাঁর মতানৈক্য প্রকাশ্যে আসছিল বেশ কিছুদিন ধরেই।

আজকের ফেসবুক পোস্টে সেই সমস্ত ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, “বিগত কয়েকদিনে বারংবার মাননীয় অমিত শাহ ও মাননীয় জে পি নাড্ডাজির কাছে রাজনীতি ছাড়ার সঙ্কল্প নিয়ে গেছি এবং

আমি ওঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ যে প্রতিবারই ওঁরা আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করে ফিরিয়ে দিয়েছেন।”

রাজনীতি ছাড়ার সাথে মন্ত্রীত্ব পদ খোয়ানোর সম্পর্ক আছে কিনা তা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সরাসরি জবাব দেন,

“এই প্রশ্ন উঠবে জানতাম। হ্যাঁ সম্পর্ক কিছু তো নিশ্চই আছে!”

সাংসদ পদ থেকে খুব শীঘ্রই ইস্তফা দেবেন বলে জানিয়েছেন।