নিউজপোল ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের দোরগোড়ায় শাসক দলে যেন ভাঙ্গন ধরেছে। সম্প্রতি দলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন শুভেন্দু আধিকারি। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার আসানসোল পুর প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আজই পুরনিগমের সমস্ত কাউন্সিলর ও কর্মীদের নিয়ে সভা ডেকে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। পদত্যাগের কারন হিসাবে তাঁর বক্তব্য ‘‌মানুষের জন্য যদি কাজই করতে না পারলাম তা হলে এই চেয়ারে বসে লাভ কী?‌ মানুষের আশা, আকাঙ্খা যদি পূরণই না করতে পারলাম তা হলে এই পদের কী কাজ?‌’

আসানসোল ও দুর্গাপুরে রাজনৈতিক জমি দেখভাল করার ক্ষেত্রে দলের বড় ভরসা জিতেন্দ্র। আসানসোলের প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেও বিধায়ক পদ থেকে এখনো ইস্তফা দেননি তিনি। শুক্রবারই দলনেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ হাজার হাজার টাকা রাজস্ব যাবে এখান থেকে কিন্তু এই শহরের কোন পরিবর্তন হবে না। ফিরহাদ হাকিমের নাম করে জিতেন্দ্র অভিমানের সুরে বলেন, ‘‌আসানসোলের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য যা ভালবাসা আছে তা বোঝার পরও একজন মন্ত্রী যদি নিজের গোলামির জন্য এই শহরকে বঞ্চিত রাখে, তার পর আর কী করার থাকে!‌’

প্রায় প্রতিদিনই, হেবিওয়েট নেতৃত্বের পদত্যাগের ঘটনা যে হারে বাড়ছে তাতে পায়ের তোলা থেকে মাটি সরছে শাসক দলের। শনিবারই অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন শুভেন্দু আধিকারি। বুধবার শুভেন্দুর সঙ্গে কাঁকসায় সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে জিতেন্দ্র তিওয়ারির যাওয়ার কথাও হয়েছে। তাহলে কি শুভেন্দুর হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? এইব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন ‘‌আমি বিজেপিতে যেতে চাই না। বিজেপিকে সমর্থনও করি না’। পাশাপাশি ‌পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন কিনা প্রশ্ন করা হলেও‌ সেই বিষয়ে সরাসরি কিছু জানাননি তিনি। এদিকে বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে দল বদলের যে হিড়িক পড়েছে তাতে জিতেন্দ্রর ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।