নিউজপোল ডেস্কঃ সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন কাঁথি পুরসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন পৌর প্রশাসক সৌমেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে এ দিন পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন, তৃণূলের আরও ১৫জন বিদায়ী কাউন্সিলর ও নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক ফিরোজা বিবিও। এদিন কাঁথির সভা থেকে ফের অবিভক্ত মেদিনীপুরে গেরুয়া শিবিরের সাফল্য আসবে বলে ঘোষণা করেন শুভেন্দু। সৌমেন্দুর দলে যোগ দেওয়ার পরেই শাসক তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর। বললেন, ‘৩০ জানুয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে দেব’।

এদিন কাঁথিতে বিজেপির ‘যোগদান মেলা’য় প্রধান বক্তা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তিনি। একের পর এক তোপ দেগেছেন শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের নেতা-সাংসদদের। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তৃণমূল এখন দেড়জনের কোম্পানি পিসি-ভাইপো মিলে দেড় জনে দল চালাচ্ছে। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের লোকেরা রাজ্য চালাবে? আর আমরা কর্মচারী? পুর ভোট নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার ভোট করাতে ভয় পায়। তাই গত কয়েক বছরের রাজ্যজুড়ে পুরভোট আটকে রেখেছে’। গত মঙ্গলবার শুভেন্দুর ছোট ভাই সৌমেন্দুকে কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে অপাসরণ করে তৃণমূল সরকার। বদলে প্রশাসক হিসাবে বসানো হয় সিদ্ধার্থ মাইতিকে। সেই সিদ্ধার্থ মাইতি-সহ নবনিযুক্ত বোর্ডের সদস্যদের কটাক্ষ করার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ, ‘এসব মালঝাল নিয়ে জিততে পারবেন না’।  বিশ্বাসঘাতক ইস্যুতে তিনি আরও বলেন, ‘লালমাটির দিলীপ ঘোষ ও বালুমাটির শুভেন্দু, দু’জনে একজোট হয়ে লড়াই করছি। তৃণমূলের এমপি বলল, মেদিনীপুরে বিশ্বাসঘাতক জন্মায়। আপনারা বদলা নেবেন না? বদলা নিতে হবে’।

এদিনের সভায় শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন কাঁথি পুরসভার অপসৃত প্রশাসক সৌমেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন আরও ১৫ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন সশরীরে সভায় হাজির ছিলেন। বাকি ২ জন শারীরিক অসুস্থতার জন্য চিঠি পাঠিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। এর ফলে ২১ আসনের কাঁথি পুরসভায় ১৫ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর যোগ দিলেন বিজেপিতে। এবার শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী ও আর এক ভাই, সাংসদ দিব্যেন্দু কি করেন? সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।