নিউজপোল ডেস্ক:‌— বর্তমান বিজ্ঞানের যা যা অবদান, তার অনেক কিছুরই প্রাথমিক ধারণা দেওয়া আছে আমাদের দেশের পুরাণ ও ইতিহাসে। কেউ কেউ বলেন রামায়ণের পুষ্পক রথের ধারণাতেই নাকি বানানো হয়েছে এরোপ্লেন। কিংবা ভারতীয় পুরাণে বলা হয়েছে যে ব্রহ্মাস্ত্রের কথা, সেটার থেকেই নাকি তৈরি হয়েছে আধুনিক পারমাণবিক বোমা!‌ তাছাড়া কলসির মধ্যে জন্মানো দ্রোণাচার্যের উদাহরণ টেনে ‘‌টেস্টটিউব বেবি’‌–র আবিষ্কারের পক্ষে সওয়াল করেন, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
সম্প্রতি এমনই এক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লীর পঞ্চবর্ণা স্বামী মন্দিরের এক মূর্তিকে নিয়ে। ২০০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের গায়ে এমন একটি মূর্তি দেখা গিয়েছে, যা নিয়ে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছিল। হবে নাই বা কেন, মন্দিরের গায়ে ওই মূর্তিতে দেখা গিয়েছিল এক ব্যক্তি একটি আধুনিক বাইসাইকেল চালাচ্ছেন!‌ মূর্তিটি মন্দিরের একটি অন্ধকার কোণে বলেই এতদিন সেটা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তাহলে কি দু’‌হাজার বছর আগেও কি ভারতে বাইসাইকেল ছিল? যদি সেটাই সত্যি হয়, তাহলে বলতে হবে, বাইসাইকেলের আবিষ্কার প্রাচীন ভারতে। কারণ পাশ্চাত্য দুনিয়া বাইসাইকেল আবিষ্কার করেছে মাত্র ২০০ বছর আগে।
অনেকেই প্রথমটায় মনে করেছিলেন, বাইসাইকেল নয়, বোধহয় অন্য কোনও কিছুর সঙ্গে ভুল করা হচ্ছে মূর্তিটিকে। কিন্তু ভাল করে খুঁটিয়ে দেখা যায়, আর কিছু নয়, মূর্তিটিতে বাইসাইকেলই বানানো হয়েছে। সেই বাইসাইকেলে রয়েছে হ্যান্ডেল, প্যাডেল এমন কী বেলও!‌
ঘোরতর ধন্দে পড়েন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ড.‌ কালাইকোভান নামে স্থানীয় এক ইতিহাসবিদের নেতৃত্বে একটু খোঁজ খবর নিতেই সামনে আসে সত্যিটা। জানা যায়, মন্দির ২০০০ বছরের পুরনো হলেও মূর্তিটি অতদিনের পুরনো নয়। ১৯২০ সালে একবার মন্দিরটির সংস্কার করা হয়েছিল। তখনই ওই মূর্তিটি নতুন করে বানানো হয়। তবে কালাইকোভান মনে করছেন, সম্ভবত এটাই প্রথমবার, যখন কোনও ভারতীয় হিন্দু মন্দিরে আধুনিক যুগের কোনও বস্তু খোদাই করা হয়েছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বিষয়টি দারুণ তাৎপর্যপূর্ণ বই কী!‌