ঠিক যেন বীরেন্দ্র সেওয়াগের ব্যাটিং! সোজাসাপ্টা, ভণিতাহীন এবং অবশ্যই বিস্ফোরক। তাতে কে কী ভাবলেন, কিছুই আসে যায় না। গোটা রাতে শ্যুটিংয়ের ক্লান্তি নিয়েও দেবশ্রুতি চক্রবর্তীর সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপ সারলেন শ্রীলেখা মিত্র

• কোনও প্রথম সারির দৈনিকে বেশ কিছুদিন আপনার ছবি দেখা যায়নি। এদিকে একের পর এক কাজ তো করে যাচ্ছেন.‌.‌.‌
শ্রীলেখা:‌ পেজ থ্রি–তে আমার ছবি ছাপল কি না, সেটা নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। তাছাড়া আমার লোভটাও কম। কাজ ভালোবাসি, তাই কখনই জমি হারানোর ভয় পাই না। পেজ থ্রি–তে ছবির দরকার কী? দর্শকরা পেজ থ্রি ছাড়াও দর্শকরা শ্রীলেখা মিত্রকে মনে রাখেননি নাকি?‌

• শ্রীলেখা মানেই বোল্ড সিন?‌ সেক্স সিম্বল? কীভাবে দেখেন ব্যাপারটা?‌
শ্রীলেখা:‌ যৌনতা একটা ট্যাবু হয়ে গিয়েছে। মাঝেমধ্যে তাঁদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে, সেক্স যদি না থাকত তাহলে ভাই, তুমি এলে কোথা থেকে? এমন তো নয় তোমার বাবা মা ঈশ্বরের কাছে চাইল, আর টপাস করে একটা বাচ্চা পড়ল আকাশ থেকে। বাবা মা সেক্স করেছে বলেই আমারা এসেছি। তাও কেন সেক্স নিয়ে এত ভ্রূকুটি?

• সেক্স, খোলামেলা রিলেশন, চুমু এসব নিয়ে প্রশ্ন অজস্রবার করা হয়েছে আপনাকে …
শ্রীলেখা:‌ দেখো, আমি সেক্সে পিএইচডি করিনি। তবে আমার কিছু স্পষ্ট ধারণা রয়েছে এ বিষয়ে। আমার মনে হয় আমাদের সমাজে যৌনকর্মীরা রয়েছেন বলেই ধর্ষণ কিছুটা হলেও কম হচ্ছে। দেখবে, ফেসবুকে অনেক দম্পতিই প্রেমে গদগদ হয়ে একসঙ্গে ছবি দেন। এদিকে রাতে বউ ঘুমিয়ে পড়লেই বর ফেসবুকে সেক্সচ্যাট করছে কিংবা বউ পরের দিন সকালে অন্য কাউকে দুষ্টু ছবি পাঠাচ্ছে। কেন? এটা আসে যথাযথ যৌন সম্পর্কের অভাব থেকে। যৌনতা একটা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, এটা নিয়ে এত রাখঢাকের কী আছে?

• নেটফ্লিক্স, অ্যামাজনের বাইরে বেরিয়ে কলকাতার ওয়েবসিরিজ নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?
শ্রীলেখা:‌ ওয়েবসিরিজ খুব ভাল একটা প্ল্যাটফর্ম। আমিও শুরুর দিকে ‘‌ধীমানের দিনকাল’‌ নামে একটা ওয়েবসিরিজে কাজ করেছিলাম। এই ক’‌দিন আগে আর একটা ওয়েবসিরিজে কাজ করলাম। কত নতুন নতুন কনসেপ্ট!‌ কত নতুন ছেলেদের সঙ্গে কাজ করলাম!‌ আসলে, গতানুগতিকতার বাইরে এসে, একটা এক্সপেরিমেন্ট হল ওয়েবসিরিজ। তাই আশাবাদী আমি। ভাল কাজ হবেই।

• কিছুদিন আগে মিটু নিয়ে পূজা ভাটের সঙ্গে একই মঞ্চে কথা বলেছিলেন আপনি। কী মনে হচ্ছে, কলকাতায় পরিস্থিতি কতটা বদলেছে?
শ্রীলেখা:‌ দেখো, মিটু নিয়ে আমি একটাই কথা বলব, কেউ যদি মনে করে শুলেই কাজ হবে,তারা নৈতিকভাবে কারও বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগই আনতে পারে না। আর মিটুর শিকার তো শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও হয়। আমি এক্ষেত্রে পুরুষ–মহিলা আলাদা করে দেখি না। কাজেই ছেলে–মেয়ে নির্বিশেষে আমি নিগ্রহের কারণটা নিয়েই বেশি চিন্তিত।

• কী মনে হয়, মহিলারাও কি সুযোগ নেন ?

শ্রীলেখা:‌ নিয়েছেন তো। ৪৯৮ আইনানুগ হওয়ার পরে অনেক মহিলা তার সুযোগ নিয়েছে। অনেক ভুল বা মিথ্যা ঘটনাও থাকে এসবের মামলায়। অনেক মেয়েরাও ছেলেদের ছোঁকছোঁকানির সুযোগ নেনে। সেটা কিন্তু দু’‌পক্ষেরই দোষ। কোনও একপক্ষের নয়।

• আচ্ছা আপনি নাকি বয়ফ্রেন্ডদের দিয়ে পা টেপান? সত্যি?
শ্রীলেখা:‌ (হেসে) হ্যাঁ। একদম। আমি খুবই আরামপ্রিয় আর আদুরে। ভালবাসার মানুষের কাছ থেকে আদর চাইব না তো কার কাছ থেকে চাইব?‌ আমার জীবনে সব বয়ফ্রেন্ডদের দিয়েই আমি পা টিপিয়েছি। ভালবেসেও কি পা টিপে দেওয়া যায় না?‌ কখনও রেস্তোরাঁয় গিয়ে কোলে পা তুলে দিলাম বললাম, ‘‌একটু টিপে দে না বাবু’।‌ তাতে কী সমস্যা, এটা তো আমার কাছে খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়।

• মাইয়া ( শ্রীলেখার মেয়ে) কি মায়ের মতো অভিনয় করতে চায়?
শ্রীলেখা:‌ মাইয়া এখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। এই বয়সে তো আমরা কত কী করব ভেবেছি। আমি আর ওর বাবা দুজনেই পড়াশোনায় খুব ভাল ছিলাম। মাইয়াও পড়াশোনায় খুব ভাল। পাশাপাশি নাচে ওর আগ্রহ আছে। তবে মা হিসেবে আমার কাছে এখনও ডিগ্রিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন পড়াশোনাটাই আসল। কেরিয়ার হিসেবে কী বেছে নেবে, সেটা ওর ব্যাপার। আমি আর ওর বাবা দু’‌জনেই ওর পাশে আছি।

• এমন কোনও একটা বিষয় যেটা তুমি স্বীকার করতে চাও আমজনতার কাছে…
শ্রীলেখা:‌ মাঝেমাঝে আমি একটা দ্বন্দে ভুগি, আমি বুঝে উঠতে পারি না আমি কি একজন ভালো অভিনেত্রী নাকি শুধুই সেক্স সিম্বল। আজকাল অনেক তারকাই ফেসবুক পেজ বুস্ট করান। আমি কখনও সেটা করিনি। তবু ফেসবুকে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ আমার পেজ লাইক করেছেন। কত মানুষ আমাকে মেসেজে বলেন, ‘আপনি আমার ক্রাশ.‌.‌.‌’ সেটা কি আমি একজন ভাল অভিনেত্রী বলে নাকি আমার একটা ছবি তৈরি হয়েছে সবার কাছে যে শ্রীলেখা মিত্র মানেই ‘সেক্স সিম্বল’? কী জানি, কোনটা ঠিক।

• আচ্ছা, শেষ প্রশ্ন। তিনজন তারকার নাম বলব। তিনজনক নতুন বছরে যদি তুমি কিছু উপহার দিতে চাও, কী দেবে?‌
শ্রীলেখা:‌ বেশ তো। নামগুলো শুনি।

• নরেন্দ্র মোদি, দেব, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
শ্রীলেখা:‌ মোদিকে ‘‌গেম অফ থ্রোন্স’‌, দেবকে গল্পের বই। এবং দাদাকে ডেকে একদিন বিরিয়ানি খাওয়াতে চাইব।