নিউজপোল ডেস্ক:‌ ‘‌কৈলাসে কেলেঙ্কারি’‌ গল্পে সফল হয়েছিলেন ফেলুদা। খলনায়কের পিছনে ধাওয়া করে, ছদ্মবেশ নিয়ে শেষ অবধি আটকে দিয়েছিলেন ভারতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পাচার। কিন্তু বাস্তবে আর তেমনটা ঘটছে কই?‌ সিঙ্গাপুরের এক সংস্থার সমীক্ষা বলছে, প্রতিবছর কমকরে ১০০টি ঐতিহাসিক নিদর্শন পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারত থেকে। বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
ওই সংস্থার তরফে এই সমস্ত মূর্তির খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করেন এস বিজয় কুমার। তিনি বলেছেন, ‘‌খাতায় কলমে আমরা ১০০টা মূর্তির বিক্রি হওয়ার খবর পাচ্ছি। কিন্তু আমার আশঙ্কা, সংখ্যাটা আরও অনেকটাই বেশি। ১৫ বছর ধরে এই কাজ করে যাচ্ছি। প্রতি বছরই চুরি আর চোরাই মূর্তির সংখ্যাটা বাড়ছে।’ এ তো গেল শুধু দেবদেবীর চোরাই মূর্তির পরিসংখ্যান। এর বাইরেও অনেকরকম মূর্তি ও নিদর্শন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে।‌

কুমার বলছেন, ‘‌সবথেকে অবাক করা ব্যাপার হল, এই চুরি যাওয়া মূর্তিগুলো কিন্তু অনেকটাই ভারী। কোনও কোনওটার ওজন ১৫–১৬ টন। এগুলোকে চুরি করা বা লোকচক্ষুর আড়ালে পাচার করা মোটেও সহজ কাজ নয়। পুলিসের একাংশের মদত না থাকলে এই কাজ করা সম্ভব কি?‌ স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই ব্যাপারে খুব একটা সদিচ্ছা নেই। আসলে তাঁরা বুঝতেই পারেন না কী দারুণ ঐশ্বর্যের মধ্যে তাঁরা থাকছেন। তাই এগুলোর যত্নও করেন না। যাঁরা সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকেন, তাঁদের কাজেও গাফিলতি দেখা যায়।’‌ আবার অনেক সময় চোররা মূর্তি চুরির পরে সেখানে নকল মূর্তি লাগিয়ে দিয়ে যায় বলেও চুরি ধরা অনেকটা কঠিন হয়ে যায়।
সাধারণত অত্যন্ত ঘুরপথে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এই মূর্তিগুলো। চেন্নাই, মুম্বই, কলকাতা ঘুরে এরা চলে যায় হং কং, লন্ডন বা নিউ ইয়র্কের বাজারে। কুমারের কথায়, ‘‌এইসব মূর্তিগুলোর সবথেকে বড় বাজার হল ইংল্যান্ড। তবে গোটা দুনিয়াতেই আস্তে আস্তে চাহিদা বাড়ছে চোরাই মূর্তির। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে চাহিদা বেড়েছে উল্কাগতিতে। ঠিক তারপরেই রয়েছে জার্মানি।’‌
একইরকমের অভিজ্ঞতা প্রীতেশ প্যাটেলের। আইপিপি (ইন্ডিয়ান প্রাইড প্রোজেক্ট)–র স্বেচ্ছাসেবক প্রীতমও হারানো মূর্তি নিয়ে কাজ করেন। আইপিপি-র কাজ ভারতবর্ষ থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সম্পদগুলির অনুসন্ধান করা। দ্বাদশ শতাব্দীর বুদ্ধমূর্তির পুনরুদ্ধারে এই সংস্থাটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমবার ব্রিটিশ মিউজিয়ামে গিয়ে প্রীতেশের মনে হয় যে, সেখানে অধিকাংশ সম্পদই ভারতবর্ষ থেকে গৃহীত। এই নিয়ে তাঁর মনে সংশয় তাড়া করে। সত্য সন্ধানে নেমে প্রীতেশের কাছে উঠে এলো অবাক করা তথ্য। তিনিও দেখেন, শুধু ব্রিটেনই নয় গোটা বিশ্বেই বছর বছর মূর্তি পাচার করা হচ্ছে ।