নিউজপোল ডেস্ক:‌ এক দেশে গুপ্তচরবৃত্তিতে গিয়ে পুলিশ বনে যাওয়া!‌ অসম্ভব?‌ আমাদের কাছে হলেও তাঁর কাছে নয়। কারণ তিনি পুতিন, ভ্লাদিমির পুতিন। ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
জার্মানি তখনও পূর্ব আর পশ্চিমে বিভক্ত। পূর্ব জার্মানিতে কেজিবি–র হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়ে পুলিশ হয়ে যান পুতিন। সম্প্রতি পুলিশ–পুতিনের সেই পরিচয়পত্র সামনে এসেছে। ১৯৯১ সালে ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৭৫ সাল থেকে সেই ভাঙন পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি–র হয়ে কাজ করতেন পুতিন। সেই কাজেই ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে কাটিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালে মিলে যায় দুই জার্মানি।
সে সময় ড্রেসডেনে অনুবাদকের কাজ করতে করতেই এক সময় হয়ে গেছিলেন জার্মান পুলিশ। ১৯৮৬ সালে তাঁর নামে পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়। সিরিয়াল নম্বর বি ২১৭৫৯০। সাদা–কালো ছবিতে তরুণ পুতিন। নীচে তাঁর সই। কার্ডের পিছনের স্ট্যাম্প থেকে স্পষ্ট, ১৯৮৯ পর্যন্ত এই পরিচয়ে কাজ করেছিলেন পুতিন। সে বছরই পূর্ব জার্মানির পতন।
মার্কিন ঐতিহাসিক ডগলাস সেলভাজ সম্প্রতি সেই পরিচয়পত্র খুঁজে পেয়েছেন। জার্মানির সংবাদপত্রে সেটি ছাপানো হয়েছে। তখন পূর্ব জার্মানির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল স্টাসি। সেই স্টাসি আর্কাইভের দায়িত্বে রয়েছে যে কর্তৃপক্ষ, তারা জানিয়েছে, স্টাসির অফিসে প্রবেশের জন্য এই পরিচয়পত্র দেওয়া হতো। পুতিন তখন কেজিবি–র হয়ে ড্রেসডেনে গেছিলেন বলে তাঁকেও একই পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে স্টাসির হয়ে পুতিন কাজ করতেন কিনা, প্রমাণ নেই।
ক্রেমলিন অবশ্য এই নিয়ে খুব একটা মাথাই ঘামাতে চাইছে না। মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, পুতিনের এ রকম কোনও পরিচয়পত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ছিল, তখন কেজিবি আর স্টাসি গুপ্তচরবৃত্তিতে একে অন্যকে সাহায্য করত। তাই পরিচয়পত্র আদান–প্রদান খুব অস্বাভাবিক নয়।