নিউজপোল ডেস্ক:‌ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলায় এবার যেন অন্য সুর!‌ সংসদে দাঁড়িয়েই অমিত শাহ বললেন, এনআরসি হবে। তবে তার জন্য কোনও বিশেষ ধর্মের মানুষ সমস্যায় পড়বেন না। ধর্ম নির্বিশেষে সব ভারতীয় নাগরিকের নামই তালিকাভুক্ত করা হবে। নাগরিক সংশোধনী বিল থেকে এনআরসি ভিন্ন, সেকথাও জানিয়ে দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ, বুধবার সংসদে ঘোষণা করেছেন, ‘‌অসমের মতো সারা দেশেই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (‌এনআরসি)‌ পরিচালিত হবে। এর জন্য কোনও ধর্মের মানুষেরই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ নয়’‌। রাজ্যসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় অমিত শাহের আশ্বাস, সকলকে নাগরিক তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এনআরসি হল ‘একটি প্রক্রিয়া’ মাত্র। এনআরসি সারা দেশেই করা হবে, অসমেও আবার করা হবে। অসমের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বেশিরভাগই এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের দাবি প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত নথি পেশ করতে পারেননি। কর্মকর্তাদের মতে, সরকার জানিয়েছে যে রাতারাতি এই ব্যক্তিদের অবৈধ নাগরিক ঘোষণা করা হবে না। তাদের কাছে বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আপিল করার এবং পরে আদালতের কাছে যাওয়ার পথ রয়েছে।


এর আগে অমিত শাহ কলকাতায় একটি সমাবেশে বলেছিলেন, যে এনআরসি জাতীয় সুরক্ষার বিষয়। এর পর মমতাকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‌মমতাদি বলেছেন এনআরসি হলে লক্ষ লক্ষ হিন্দু পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত হবেন। এসব মিথ্যে কথা। আমি আশ্বস্ত করছি, একজন হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান, জৈনকেও ঘর ছাড়তে হবে না। বিশেষত হিন্দুদের। কারণ এখানে তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ’‌।
এই প্রসঙ্গই ফিরে আসে রাজ্যসভায়। হিন্দু, খ্রিস্টান সহ বাকিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বললেও, শাহ কেন মুসলিমদের এড়িয়ে গেলেন?‌ তা জানতে চান এনসিপি সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন। জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘আপনি এনআরসি এবং নাগরিক সংশোধনী বিল এক করে ফেলছেন। এনআরসি তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ধর্মকে নিশানা করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতেই সব কিছু হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস যাই হোক না কেন, দেশের সব নাগরিকেরই নাম নথিভুক্ত হবে এনআরসি তালিকায়। দেশের সর্বত্র এনআরসি হবে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। সকলকে এনআরসি-র আওতায় আনতেই এই প্রক্রিয়া’।