নিউজপোল ডেস্ক: করোনা মহামারির জেরে ১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বিরাট কোহলী এন্ড হিজ কোম্পানি। বিশ্বের সবথেকে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেটারদের বেতনহীন সংবাদ প্রকাশিত হতেই বিতর্ক দানা বেঁধে গিয়েছে। শেষমেশ ভারতীয় বোর্ডও কী করোনার থাবা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারলো না?

সূত্র মারফৎ খবর বলছে, জাতীয় দল সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও প্রথমশ্রেণীর নথিভুক্ত ক্রিকেটারদের বেতন হয়নি ১০ মাস ধরে। এক দৈনিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে বেতনহীন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা। কিন্তু কেন এই অবস্থা? জানা যাচ্ছে, করোনা মহামারীর কারণে টালমাটাল অবস্থা ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের। এছাড়া গত ডিসেম্বর মাস থেকে বোর্ডের ফিনান্সিয়াল অফিসার নেই। ফাঁকা রয়েছে জেনারেল ম্যানেজার ও সিইও পদও।

পাশাপাশি বোর্ড সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব জয় শাহ-র মেয়াদও ফুরিয়ে গিয়েছে। ফলে ক্রিকেটারদের বেতন আটকে রয়েছে নিয়মের জাঁতাকলে। বিশ্বের ধনী এই ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই গত বছর শেষবারের মতো তাঁদের আয়-ব্যায়ের হিসেব পেশ করেছিল। সেই মতো ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ও নগদ মিলিয়ে বোর্ডের হাতে রয়েছে ৫৫২৬ কোটি টাকা। ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ২৯৯২ কোটি টাকা। পাশাপাশি টিভি সম্প্রচার স্বত্ত্ব বিক্রির চুক্তি অনুযায়ী বোর্ড আয় করেছিল ৬১৩৮ কোটি টাকা। আর চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বেতন দিতে খরচ হয় মাত্র ৯৯ কোটি টাকা। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বর্তমানে বিসিসিআই এর চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা ২৭ জন।

জানা গিয়েছে, গত বছর ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় দল ২ টেস্ট, ৯ একদিনের ম্যাচ এবং ৮টি টি২০ ম্যাচ খেলেছে । এরপর করোনা পরিস্থিতির জন্য বন্ধ হয়ে যায় খেলাধুলোর সমস্ত ইভেন্ট । ফলে বলা যায় এই লকডাউনের মধ্যে বেতনহীন রয়েছেন ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ক্রিকেটাররা। প্রসঙ্গত, প্রতি ৪ মাস অন্তর বেতন পান জাতীয় দলের নথিভুক্ত ক্রিকেটাররা। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে কেউই বেতন হাতে পাননি বলেই ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে এও দাবি করা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার জানিয়েছে, ‘বেতনের বিষয়ে কী হবে, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই আমাদের। শেষবার ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য বেতনের ইনভয়েস সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। সেই টাকা এখনও জমা পড়েনি’। কবে ক্রিকেটারদের বেতন দেওয়া হবে সেটা নিয়ে সরকারিভাবে কিছুই জানা যায়নি বিসিসিআই এর তরফে।