নিউজপোল ডেস্কঃ উত্তরাখণ্ডের তুষারধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ১৭০ জন নিখোঁজ। কিন্তু এই প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যাটা ঠিক কততে পৌঁছবে তা এখনও কেউই জানে না।

প্রবল জলস্রোতে এদিন ভেসে যান ঋষিগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতে থাকা শতাধিক শ্রমিক। তুষারধসের ফলে ধৌলিগঙ্গা ও অলকানন্দা নদীতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখনই জানা গিয়েছিন বাঁধ ভাঙা বন্যায় ১৫০ জন নিখোঁজ। তাঁরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করছিলেন। মনে করা হচ্ছে জলস্রোতে ভেসে যেতে পারেন তাঁরা। এরপর বাড়তে থাকে নিখোঁজের সংখ্যা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকার। রাজ্য সরকারের তরফে হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ জায়গায় আটকে থাকলে অথবা এই বিপর্যয়ের জেরে কোনও সমস্যার মধ্যে পরে সাহায্যের প্রয়োজন হলে হেল্পলাইন নম্বর ১০৭০ বা ৯৫৫৭৪৪৪৪৮৬ নম্বরে যোগাযোগ করুন।

এদিকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের প্রতি ৪ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের কয়েকটি দল, আইটিবিপি, সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জোর কদমে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে। এয়ারলিফ্টের ব্যবস্থার জন্য সেনার তিনটি হেলিকপ্টার কাজ করছে সেখানে৷ দুটি এমআই ১৭এস ও একটি ধ্রুব ওঠা-নামা করছে৷ প্রয়োজনে আরও হেলিকপ্টার কাজে লাগাবে ভারতীয় সেনা৷ বন্যা বিধ্বস্ত এলাকায় দেশের ৬০০ সেনা উদ্ধারকার্যে রয়েছেন৷

এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে এই তুষারধসের ফলে ঋষিগঙ্গা ও ধৌলিগঙ্গা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্য়াপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রেরই বাঁধ ভেঙে গিয়েছে বলে খবর। চামোলি জেলার তপোবনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর সহ সমস্ত এজেন্সিকে এখন হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। মনে করা হচ্ছে একাধিক মৃতদেহ এখনও উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।