নিউজপোল ডেস্ক: ডা. বি আর আম্বেদকর অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। এই অস্পৃশ্যতা আসলে দেশের লজ্জা। কিন্তু ভারতবর্ষের মাটিতে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে অস্পৃশ্যতার বীজ।

কিছুদিন আগে ইকোনমিক এন্ড পলিটিক্যাল উইকলি জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে যে, উত্তর ভারতে ৪৯ শতাংশ পরিবার অস্পৃশ্যতা মানে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে অস্পৃশ্যতা  মেনে চলে ২০ শতাংশ পরিবার। ভারতীয় মানব উন্নয়ন সমীক্ষা-২ (২০১২) ভিত্তিতে অমিত তোমার এবং ওঙ্কার জোশি এই শতাংশের হিসাব করেছেন। তোমার জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং জোশি মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিদ্যা বিভাগের গবেষক। ন্যাশানাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লাইড ইকোনমিক রিসার্চ এবং মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে এই সমীক্ষা করা হয়। সারা দেশের ৪২ হাজার পরিবারের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমাজ বিজ্ঞানীরা এই অস্পৃশ্যতাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছেন।

তাঁরা জানাচ্ছেন, শহর এবং গ্রামের ভিত্তিতে অস্পৃশ্যতা লক্ষ্য করা যায় এই দেশে। বহু বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। ৩০ শতাংশ গ্রামের মানুষের মধ্যে অস্পৃশ্যতার বীজ রয়েছে। শহরাঞ্চলে সেই সংখ্যাটা ২০ শতাংশ। পাশাপাশি ধর্মের নিরিখেও অস্পৃশ্যতা লক্ষ্য করা যায় বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

জৈন ধর্মের ৩৫ শতাংশ পরিবার, হিন্দুদের মধ্যে ৩০ শতাংশ পরিবার অস্পৃশ্যতা মেনে চলে। উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে এই প্রভাব মাত্র ১ শতাংশ। ৩০ শতাংশ অশিক্ষিত মানুষও এখনও অস্পৃশ্যতাকে জিইয়ে রেখেছেন। এটাও দেখা গেছে যে, ব্রাক্ষ্মণ,তফসিলি জাতি উপজাতি মানুষের মধ্যে শিক্ষা প্রবণতা তৈরি হওয়ার ফলে অস্পৃশ্যতার ধারণা অনেকটাই পাল্টেছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় উন্নীত হয়েছে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের ৬৯ শতাংশ মানুষ। আগে যে সংখ্যাটা ছিল ৪৮ শতাংশ। ভারতবর্ষের মতো দেশে অর্থের ভিত্তিতেও মানা হয় অস্পৃশ্যতা। দেশের ৩২.৫৬ শতাংশ গরিব পরিবার এবং ২৩.৩৫ শতাংশ ধনী পরিবার অস্পৃশ্যতা মেনে চলে। আবার উত্তর ভারতে ৪০ শতাংশ, মধ্য ভারতে ৪৯ শতাংশ পরিবারের মধ্যে  অস্পৃশ্যতার প্রভাব রয়েছে। পশ্চিমী রাজ্যের মধ্যে ১৩ শতাংশ পরিবার বৈষম্যের অভ্যেস রয়েছে।

অমিত তোমার জানান, ‘এই সমীক্ষা ২০১৫ সালে শুরু করি। সমীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পাই অস্পৃশ্যতার শিকড় কতটা গভীরে রয়েছে।’