নিউজপোল ডেস্ক:‌ কারও কোনও মন্তব্য পছন্দ হল না। সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া গেল না। পথ একটাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে হেনস্থা বা ট্রোল করা। রাজনীতিকরা আরও বেশি করে এই ট্রোলের শিকার। মহিলা রাজনীতিকদের অবস্থা কিন্তু আরও খারাপ। শুধু ট্রোল নয়, নিয়মিত হুমকি পান তাঁরা। গত বছর লোকসভা নির্বাচনের সময় অন্তত ১০০ জন মহিলা রাজনীতিক খুন, ধর্ষণের হুমকি পেয়েছেন।
এই সত্য তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল–এর একটি সমীক্ষা। লোকসভা নির্বাচনে ৭২৪ জন মহিলা লড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৫ জন টুইটারে ১০ লক্ষ বার হেনস্থার শিকার। প্রতি পাঁচটিতে একটি ছিল যৌন হেনস্থার হুমকি। মার্চ থেকে মে— এই তিনমাসে টুইটারে এতগুলো মেনশন পেয়েছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে আসলে মহিলাদের জনপ্রতিনিধিত্ব করা থেকে আটকানোর চেষ্টা চলছে। বিজেপি নেত্রী সাজিয়া ইলমির কথায়, ‘‌মানুষের জানা উচিত রাজনীতিতে মহিলাদের কতটা সহ্য করতে হয়। কতটা বৈষম্য রয়েছে, সেটাও জানা দরকার।’‌
অ্যামনেস্টির মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনলাইনে মহিলা রাজনীতিকদের হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে না কমছে, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ কয়েক বছর আগেও এই সংক্রান্ত নথি সংগ্রহই করা হতো না। তবে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন–এর প্রধান আদ্রিয়ান লাভেট জানিয়েছেন, অনলাইনে মহিলাদের হেনস্থা বাড়ছে। শুধু ভারতে নয়, গোটা দুনিয়ায়। এমনকী উত্তর আমেরিকা, ইউরোপেও পরিস্থিতি একই রকম।
২০১৮ সালে ব্রিটেন এবং আমেরিকায় সমীক্ষা চালানো হয়। তাতে ৩২৩ জন মহিলা রাজনীতিক জানিয়েছেন, তাঁদের উল্লেখ করে যত টুইট হয়, তার মধ্যে ৭ শতাংশই আপত্তিকর। গত বছর ব্রিটেনে বহু মহিলা রাজনীতিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এই আপত্তিকর টুইটের জন্য। অ্যামনেস্টি এ ধরনের টুইট সনাক্ত করে ডিলিট করার জন্য টুইটারকেই আবেদন জানিয়েছে।