নিউজপোল ডেস্ক: প্রাক্তন ছাত্রের  নোবেল জয়ের খবর পেতেই উৎসবে মেতেছে নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজের পড়ুয়া জানিয়েছেন, প্রাক্তনী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চরম সাফল্যে তাঁরা গর্ব বোধ করছেন। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশুনো করার সময় যে তাঁকে ১০ দিন তিহার জেলে কাটাতে হয়েছিল, সে কথা বর্তমান পড়ুয়াদের অনেকেরই অজানা। শুধু তাই নয়, পুলিশের হাতে তাঁকে খেতে হয়েছিল নির্মম মারও। তিনবছর আগে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ নিজেই জানিয়েছিলেন সেকথা।

সালটা ১৯৮৩। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন অভিজিৎ। তিনি জানিয়েছেন, সেই সময় তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার প্রতিবাদেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিজের বাড়িতে ঘেরাও করেছিলেন অভিজিৎ এবং তাঁর বন্ধুরা। অভিজিতের কথায়, ‘পুলিশ ডেকে আমাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০দিন ধরে চলে নির্মম প্রহার। আমাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বলাই বাহুল্য সেই অভিযোগ ধোপে টেঁকেনি। ১০দিন পরে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।‘ অভিজিতের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে তদানীন্তন কংগ্রেস সরকার ও বামমনস্ক অধ্যাপকদের হাত ছিল।

কিন্তু কেন আন্দোলনে নেমেছিলেন অভিজিৎরা? আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অর্থনীতিবিদ জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মে এমন কিছু পরিবর্তন আনছিলেন, যাতে গ্রামের পড়ুয়াদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে অসুবিধা হতো। তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন এর প্রতিবাদে আন্দোলন করছিল। বিগত কয়েকবছর ধরে জেএনইউ-তে একের পর এক ঘটনা দেশদ্রোহমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছে। সেই বিষয়ে অভিজিতের মূল্যায়ন, ‘আমার তো মনে হয়, রাষ্ট্র আমাদের (পড়ুয়াদের) ওপরে নিজের শক্তি দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এখনও সেটাই করছে।‘