নিউজপোল ডেস্ক:‌ ঝকঝকে একটা ফ্ল্যাট, তাতে নরম সোফা। দেওয়ালে অসাধারণ একটা ছবি। মেঝেতে কার্পেট। তার মাঝে একটা নেড়ি কুকুর ঘুরে বেড়ালে কেমন দেখতে লাগবে? ভাববেন না। বরং চেনা ছবির বাইরে বেরোন। কুকুরপ্রেমীদের পছন্দের কুকুরের তালিকায় ল্যাব, স্পিচ, গোল্ডেন রিট্রিভারের পর একটি নিরীহ নেড়ি কুকুর তো আসতেই পারে? না এলে কোথায় যাবে রামপুর হাউন্ড, কম্বাই,তাঙ্খুল হুই ,বাখারওয়ালের মত কুকুরের প্রজাতি?
ভারতের নিজস্ব কুকুরের প্রজাতি এগুলি। যাদের আমরা নেড়ি বলেই চিনি। বাস্তুতন্ত্রের নিয়মই অদ্ভুত। বিরল ক্রমশ বিলুপ্ত হয়। সেই নিয়মেই বিলুপ্ত হতে বসেছে ভারতবর্ষের বেশ কয়েকটি প্রজাতির কুকুর।

রামপুর হাউন্ডঃ— কালু ভুলু লালু বলে যাকে ডাকেন, সেই রামপুর হাউন্ড পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। আকারে বেশ লম্বা, পেট সরু, মুখ ছুঁচোল প্রজাতির এই কুকুর ভারতের উত্তর প্রান্তে, দিল্লি থেকে বরেলি পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। জমিদারির রক্ত আছে এদের শরীরে। রাজা মহারাজাদের পোষ্য ছিল এই প্রজাতির কুকুর। কিন্তু এখন কুকুরের এই বিশেষ প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়।


কম্বাইঃ— দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে একসময় কম্বাই প্রজাতির কুকুরের বাস ছিল। এঁরা মূলত বাড়িতে থাকত একসময়। স্বভাবে শান্ত, বিচক্ষণ, সতর্ক এই প্রজাতির কুকুর। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একটি বিশুদ্ধ কম্বাই প্রজাতির কুকুর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।


তাংখুল হুইঃ— মণিপুর ও নাগাল্যান্ডের বেশ কিছু এলাকায় পাওয়া যায় তাংখুল। গায়ে বড়বড় লোম, পনিটেলের মত ল্যাজ আর চওড়া কান দেখেই চেনা যায় তাদের। এই প্রজাতির সাথে শিকারি কুকুরদের মিল পাওয়া যায়। যাদের রাতে ছেড়ে দেওয়া হত রাজবাড়ির বাগানে, পাহারা দেওয়ার জন্য। কিন্তু আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হচ্ছে এই প্রজাতিও।


কাশ্মীরি শিপ ডগ/বাখড়ালঃ— জম্মু–কাশ্মীর ও তার সংলগ্ন এলাকায় এই যাযাবর প্রজাতির পাহাড়ি কুকুর দেখতে পাওয়া যায়। পাহাড়ের উপত্যকায় যাযাবরদের তাঁবুতে দেখতে পাবেন এদের। ঠান্ডা জায়গায় থাকার জন্য এদের গায়ে বড় বড় লোম থাকে, কিছুটা মণিপুরের তাংখুলের মত। এদেরকেও পাহারা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। কিন্তু আজ সেই বিশেষ কুকুরের প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়।

জনানঙ্গিঃ— দেখতে খুব একটা সুন্দর না হলেও এই প্রজাতির কুকুরের শারীরিক গঠন একেবারেই আলাদা। চকচকে চামড়ার ওপর নানান আকৃতির দাগ থাকে এদের শরীরে। অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় এরা অনেক বেশি কাজ করতে পারে। একটানা অনেক বেশি সময় ধরে দৌড়তে পারে জনানঙ্গিরা।


চিপ্পিপাড়াইঃ— শিকারি কুকুরের প্রজাতিতে চিপ্পিপাড়াইয়ের নাম পাবেন। চকচকে চামড়ার এই কুকুর সাদা বা কালো রঙের হয়। এদের পা বেশ লম্বা, দেহের গঠন পেছনের দিকে সরু। ফলে এরা অনেক বেশি ক্ষিপ্র এবং হিংস্র। তামিলনাড়ুর বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখা যায় এদের।


তাজিঃ— দেখতে অনেকটাই হাউন্ড প্রজাতির মতো। কিন্তু এদের কানে ও লেজে লোম বেশি থাকে। এরা এতটাই হিংস্র যে জঙ্গলের অন্যান্য বন্যপশু শিকার করার জন্য এদের ব্যবহার করা হতো। পেশীবহুল হওয়ায় তাজিরা খেলাধুলাতেও বেশ ভাল। কিন্তু আজ তাজিদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল।


এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে আরও অনেক প্রজাতির কুকুর। যেগুলি ক্রমে বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে। প্রয়োজন সংরক্ষণ। আপনার বাড়ির সামনে যে রাস্তার কুকুরটি রোজ পাহারা দেয়, সেও কোনও না কোন প্রজাতিভুক্ত। কী ভাবছেন? নেবেন নাকি ওদের দত্তক?