নিউজপোল ডেস্ক: সংসদে দাঁড়িয়ে বলিউডের মাদক-যোগের অভিযোগের সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন। এই বক্তৃতার পর তাঁর ও তাঁর পরিবারের আগাম সুরক্ষার ব্যবস্থা করল মুম্বই পুলিশ। অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের বাংলো জলসার বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

জুহুতে বচ্চন পরিবারের বাংলো জলসার বাইরে বিরাট বাহিনীকে পাহারায় রেখেছে মুম্বই পুলিশ। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে খবর। মঙ্গলবারের মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হন জয়া বচ্চন। নেটিজেনের একটা বড় অংশ তাঁর নিন্দায় সরব হন। ট্যুইটারে ট্রেন্ড করছিল #ShameOnJayaBachchan হ্যাশট্যাগ। তবে ৭২ বছরের অভিনেত্রী তাঁর মন্তব্যের জন্য বলিউডের একটা অংশ ও অন্যান্য মহল থেকে কুর্নিশও কুড়িয়েছেন।

বুধবার জয়া বচ্চনের পাশে দাঁড়িয়েছে শিব সেনা। দলীয় মুখপাত্র সামনায় বিজেপি নেতা রবি কিষেণের সমালোচনা করে বলা হয়, ‘যাঁরা এই দাবি করছেন, তাঁরা ভণ্ড। তাঁরা দু’রকমের মন্তব্য করেন।’ সামনায় আরও বলা হয় যে, যাঁরা দাবি করছেন, সব শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা মাদকাসক্ত, তাঁদেরই আগে ডোপিং পরীক্ষা করানো হোক। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বলিউডের অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতকে একহাত নেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন। বিজেপির সাংসদ রবি কিষণের মন্তব্যেরও তীব্র নিন্দা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে অপমান করার ষড়যন্ত্র চলছে। এটা লজ্জার।’

সম্প্রতি সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে বলিউডের ড্রাগ-যোগের বিষয়টি উঠে আসায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। সে বিষয়েই জয়া বচ্চন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিনোদন জগতের মানুষদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভর্ত্‍‌সনার শিকার হচ্ছে। যে সব লোকেরা এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেই নাম কামিয়েছেন, তাঁরাই এখন একে নর্দমা বলছেন। আমি এর সঙ্গে একেবারেই সহমত নই। আশা করব, এই ধরনের লোকেদের এই ভাষা ব্যবহার বন্ধ করতে বলবে সরকার।’

দিন কয়েক আগেই বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে ‘গটর’ অর্থাত্‍‌ নর্দমা বলে কটাক্ষ করেছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ইন্ডাস্ট্রির ৯৯ শতাংশ মানুষই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে।

একই ইস্যুতে রাজ্যসভায় কঙ্গনার পাশাপাশি বিজেপি সাংসদ রবি কিষণের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন জয়া বচ্চন। তিনি আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, ‘মাত্র কয়েকজনের জন্য গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে আপনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেন না। আমি লজ্জিত যে গতকাল আমাদের লোকসভার এক সদস্য, যিনি নিজেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই লোক, এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এটা লজ্জার।’

জয়াকে পালটা জবাব দিয়ে কঙ্গনা ট্যুইটে বলেছিলেন, ‘আমার জায়গায় যদি আপনার কন্যা শ্বেতা থাকতেন, তাঁকেও যদি মারধর করা হত, কিশোরী অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করা হত, তাহলেও কি আপনি এই একই কথা বলতেন? যদি অভিষেক সব সময় হেনস্থার অভিযোগ করতেন এবং একদিন তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যেত, তাহলেও কি আপনি এই একই কথা বলতেন? আমাদের প্রতিও সমবেদনা জানান।’