নিউজপোল ডেস্ক: সম্প্রতি মার্কিন সংবাদসংস্থা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক সংস্থার কর্মীদের BJP নেতাদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষ রোধ আইন’ প্রয়োগে ক্রমাগত বাধা দিয়েছেন ফেসবুক ইন্ডিয়ার এগজিকিউটিভ আঁখি দাস। ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, গেরুয়া শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ‘ভারতে ফেসবুকের ব্যবসায় ক্ষতি’ হবে বলে কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন ওই এগজিকিউটিভ। আর এবার ফেসবুক বিতর্কে সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে সরব হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে ওই কমিটির দুই সদস্য মহুয়া মৈত্র এবং নাদিমূল হককে বৈঠকে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।

ফেসবুক ইন্ডিয়া নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে ভারতীয় রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। এবার টাইম ম্যাগাজিন-এর প্রতিবেদনে একই দাবি করা হয়েছে ফেসবুক অধীকৃত হোয়াটসঅ্য়াপ নিয়ে। যার নতুন করে তোলপাড় শুরু। গোটা বিষয়ে ফেসবুক CEO মার্ক জাকারবার্গকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের তরফে চিঠিতে কংগ্রেস নেতা K C ভেনুগোপাল লিখেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভারতে আর্থিক লেনদেন চালু করতে চান জাকারবার্গ। এই কারণেই BJP-কে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফেসবুকের ভারতীয় দফতরের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির সংস্রব নিয়ে গতবছরই সংসদে সরব হওয়ার বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। প্রসঙ্গত, গতবছর জুনেই রাজ্যসভার অধিবেশনে ফেসবুক-BJP সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন ডেরেক। সেই ভিডিয়ো আজ টুইট করে BJP-কে একহাত নিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারও।

ফেসবুকের সঙ্গে বিরোধীদলগুলির সম্পর্কের পালটা অভিযোগ তুলে সোমবার একটি টুইট করেন BJP নেতা অমিত মালব্য। তাঁরই পালটা হিসেবে গত বছর নির্বাচনের পর রাজ্যসভায় ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্যের অংশ তুলে টুইট করেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার। একই টুইট করেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েনও। এদিকে, একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শাসকদলকে আক্রমণ করে ডেরেক বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ও ফেসবুকের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।’ গতবছর লোকসভা নির্বাচনের পর সংসদে ফেসবুক ইন্ডিয়ার অফিস ‘BJP IT সেলের অফিসে’ পরিণত হয়েছে বলে তোপ দেগেছিলেন ডেরেক। তা মনে করিয়ে ডেরেক আজ বলেন, ‘আমরা অনেক আগে এই নিয়ে অভিযোগ করেছি।’ এমনকী তৃণমূল কংগ্রেসের শতাধিক কর্মী-সমর্থকের অ্য়াকাউন্ট ফেসবুক ডিলিট করেছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতা।