‘এই সবে কালবৈশাখীর দাপট কমল এখন থেকে আবার পুজো পুজো কি রে?’

রাজন্যা

মা রান্নাঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে বলত আর আমি নিম গাছের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম কারণ ঝড়ের বেগ নিমের ডালে আছড়ে পড়লে আমার ওকে দেখে মহিষাসুর মনে হত। তখন অবশ্য আমার বয়স আট কি নয়! এখন এসব ভাবা হয় না, ঝড় হোক, শীত আসুক, বসন্তের রং লাগুক যাই হয়ে যাক না কেন, এখন শুধু ঘুম পায়। মনে হয় দু’চোখ বুজে আসছে আর ওদিকে আমার পুজো আসছে।

‘আমার পুজো’ ‘তোমার পুজো’ করে চারদিকে ব্যানার বসছে পুজোর মন্ডপে ভিড় জমছে, স্যাটেলাইট থেকে দেখলে বোঝা যাবে পিঁপড়ের মতো হেঁটে চলেছে আবেগহীন মানুষ। না না দুর্গাপুজো নিয়ে বাঙালির আবেগের কমতি নেই। কিন্তু স্যাটেলাইটে তো আর আবেগ ধরা পড়ে না!

এই লেখাটা লিখতে লিখতে হঠাৎ কানের পাশে তীব্র আওয়াজ শুনলাম, হাড় হিম করা সাইরেন। আমার পুজো তো এখনও শুরুই হল না, তার আগেই অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ ভেসে আসছে বড় রাস্তা থেকে। তবুও বাঙালির আবেগের শেষ নেই। যথারীতি আমিও বাঙালি আমার আবেগেও…

ও হ্যাঁ বলতেই ভুলে গেছি, দূর্গা বিসর্জন দেওয়া মানে দূর্গা পুড়িয়ে ফেলা নয় কিন্তু, কিংবা দূর্গার জিভ টেনে ছিঁড়ে, মেরুদণ্ড ভেঙে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করাও নয় আবার ভিড় প্যান্ডেলে কনুই দিয়ে ঠেলা মেরে কিংবা উত্তল মাংসপিণ্ড খুঁজে দূর্গাকে অপদস্থ করাও নয়। বিশের অতিমারির চেয়েও আরও ভয়ানয় এই মানসিক অসুস্থতা তাই ‘আমার পুজো’ আজকাল ভিড় এড়িয়ে চলে।

রাজন্যা লোকসংগীত শিল্পী, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী