করোনা অতিমারীর সময় দেশজুড়ে হাহাকার। আম জানতার হাতে কাজ নেই। ব্যাঙ্ক জমানো হাজার হাজার টাকা নেই। অধিকাংশ শিল্প বন্ধ। দিন আনি দিন খাই মানুষের নাভিশ্বাস। এর মধ্যেই বিপুল টাকা কামিয়ে নিয়েছেন দেশের কিছু শিল্পপতি।

সমীক্ষা সংস্থা অক্সফ্যামের সার্ভে বলছে করোনা অতিমারীর সময়ে দেশের কোটিপতিদের আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে দেশের ৮৪ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে লক্ষ্যনীয় ভাবে।

অক্সফ্যামের ‘The Inequality Virus Report’ এ বলা হয়েছে করোনা অতিমারীর সময় ঘণ্টায় ৯০ কোটি টাকা আয় করেছেন রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির কোম্পানি। দেশের একজন অদক্ষ শ্রমিকের ওই টাকা আয় করতে লেগে যাবে ১০,০০০ বছর। অন্যভাবে দেখলে অতিমারীর সময়ে প্রতি সেকেন্ডে মুকেশ আম্বানি যে আয় করেছেন তা আয় করতে ওই অদক্ষ শ্রমিকের লেগে যাবে ৩ বছর।

দেশের মানুষের আয়ের তুলনা করে ওই সংস্থা জানিয়েছে, অতিমারী সময়ে দেশের ২৪ শতাংশ মানুষের আয় ছিল মাসে ৩,০০০ টাকা। ওই সময়ে আম্বানির মোট আয় দেশের ৪০ কোটি অদক্ষ শ্রমিকের পাঁচ মাসের আয়ের সমান।

সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে করোনা অতিমারী বা লকডাউনের সময়ে দেশে ধনী ও দরিদ্র মানুষের আয়ের ফারাক কতটা বেড়েছে। এই ছবি শুধু ভারতেরই নয়, গোটা বিশ্বে একই ছবি। ভারতের মতো দেশে ১০০ বিলিয়নেয়ারের অর্থের পরিমাণ গত মার্চ থেকে বেড়েছে ১২,৯৭,৮২২ কোটি টাকা। ওই টাকা দিয়ে দেশের ১৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষের প্রত্যেককে ৯৪,০৪৫ টাকা দেওয়া যেত।