নিউজপোল ডেস্কঃ আজ, শুক্রবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরির দিনক্ষণও ঘোষণা হল এদিন। কমিশনের মতে আট দফায় হতে চলেছে বাংলার ভোট। অন্যদিকে অসমে নির্বাচন হবে ৩ দফায়। বাকি তিন রাজ্যে একটি দফায় হবে ভোট। বাংলায় ভোট পর্ব শুরু হবে ২৭ মার্চ এবং শেষ হবে ২৯ এপ্রিল। সব রাজ্যেই ভোট গননা হবে ২ মে। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক নিয়মবিধি বেঁধে দিয়েছে ভোট গ্রহনের ক্ষত্রে। সেই কথাকে মাথায় রেখে বাংলায় বুথের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে ৩১ শতাংশ। এবার পশ্চিমবঙ্গে বুথের সংখ্যা করা হয়েছে ১০১৯১৬টি যেখানে  ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বুথ সংখ্যা ছিল ৭৭,৪১৩টি। পাশাপাশি বিহার মডেলেই এক ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে ভোটদানের সময়, যাতে অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো যেতে পারে।

করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলার দিকেও নজর ছিল কমিশনের। সেই খাতিরে বাংলায় জোড়া পুলিশ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে কমিশন। যদিও এ রাজ্য ছাড়াও বাকি চার রাজ্যে এই পর্যবেক্ষক নেই। পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকবেন বিবেক দুবে ও মৃণালকান্তি দাস। এর মধ্যে বিবেক দুবে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনেও পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন। মৃণালকান্তি দাস ছিলেন ত্রিপুরার পুলিশ পর্যবেক্ষক। কমিশন দাবি করেছে সব পরিস্থিতি বিচার করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আরও জানান, ২ পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিএসএফের হেলিকপ্টার চড়ে নজর রাখবেন গোটা রাজ্য জুড়ে। দুই পুলিশ পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে অজয় নায়েককে। এছাড়াও বাংলায় আয়-ব্যয়ের পর্যবেক্ষক হিসেবে বি মুরলিকুমারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

বুথ ও প্রচারের ক্ষত্রেও এদিন একাধিক স্বাস্থ্য ও আচারনবিধি বেঁধে দিয়েছে কমিশন। করোনার বিধি অনুযায়ী বুথগুলিতে থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও মাস্ক পরার বাধ্যতা। বয়স্কদের জন্য শৌচালয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রতি বুথে সর্বোচ্চ ভোটার থাকবে ১,০০০ জন এবং সব বুথ বাধ্যতামূলকভাবে নিচের তলে হতে হবে। ৮০ ও তার বেশি বয়স্ক ও বিশেষভাবে অক্ষম ব্যক্তি এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের (মেট্রো পরিষেবা) জন্য রয়েছে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। প্রচারের ক্ষত্রেও এবার থেকে মেনে চলতে হবে একাধিক বিষয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থী-সহ পাঁচজন প্রচার করতে পারবেন। এছাড়াও সর্বাধিক ৫টি গাড়ি নিয়ে পথসভা করা যাবে। পাঁচটি গাড়ির পর কনভয়ে ফাঁক থাকবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর সঙ্গে দু’জন থাকতে পারবেন। গাড়িও সর্বোচ্চ দুটি রাখা যাবে। যদিও প্রার্থী চাইলে অনলাইনেও মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেন।