বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায়দান হতে চলেছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর।

নিউজপোল ডেস্ক: ২৮ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায়দান হতে চলেছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ওই দিন রায় ঘোষণা করবে লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। মামলায় অভিযুক্ত যে ৩২ জনকে রায়দানের দিন আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছে বিজেপির দুই বরিষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী ও মুরলী মনোহর যোশীর নাম। তালিকায় রয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেত্রী উমা ভারতী ও রাজস্থানের প্রাক্তন রাজ্যপাল কল্যাণ সিং-এর নামও।

গত ২২ অগস্ট বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার গোটা শুনানি প্রক্রিয়া ও রায় ঘোষণার জন্য লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতকে আরও এক মাস সময় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বহু আলোচিত এই মামলার রায়দান শেষ করতে হবে বলে সর্বোচ্চ আদালত তার সর্বশেষ রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘ দিন থেকে বিচারাধীন এই মামলার রায়দানের জন্য ট্রায়াল কোর্টকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। সেই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেন ট্রায়াল কোর্টের বিচারক এসকে যাদব। যার প্রেক্ষিতে আরও এক মাস সময় মঞ্জুর করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলে, ‘এই মামলার বিচারপর্ব বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে বলে বিশেষ বিচারক সুরেন্দ্র কুমার যাদব তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন। সেই রিপোর্ট পড়ার পরে রায়দান-সহ সমস্ত বিচারপর্ব শেষ করার জন্য আমরা বিশেষ সিবিআই আদালতকে আরও এক মাস মঞ্জুর করছি এবং ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিচার শেষ করে রায় ঘোষণার নির্দেশ দিচ্ছি।’ বহু আলোচিত এই মামলায় গত ২৪ জুলাই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশেষ সিবিআই আদালতে নিজের বয়ান নথিভুক্ত করেন ৯২ বছর বয়সি আডবাণী। তার আগের দিন মুরলি মনোহর যোশির বক্তব্য আদালতে নথিভুক্ত হয়। আডবাণীকে আদালত ১০০টির বেশি প্রশ্ন করে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা। জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। একইভাবে আর এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মুরলি মনোহর যোশীও আদালতে বক্তব্য নথিভুক্ত করার সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।

এই মামলার রায়ে তাঁর ‘কিছু যায়-আসে না’ মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে অপর অন্যতম অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রী উমা ভারতীকে। গত ২৫ জুলাই তিনি বলেছিলেন, ‘বক্তব্য নথিভুক্ত করার জন্য কোর্ট আমাকে ডেকেছিল এবং যা সত্যি তাই আমি আদালতকে বলেছি। আদালত কী রায় দিল তা আমার কাছে কোনও ব্যপার নয়। যদি আমাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় নিজেকে ধন্য বলে মনে করব। আমার জন্মভূমি খুশি হবে।’