নিউজপোল ডেস্ক: ঢাকার অনতিদূরেই গাজা স্টেডিয়ামে তাঁরা প্র্যাকটিস করছিলেন। আর সেই সময়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হয়। বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার। সূত্রের খবর, কিশোর ওই দুই ক্রিকেটারের নাম মহম্মদ নাদিম এবং মিজানূর রহমান। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বাধ্য হয়েই ক্রিকেট থামিয়ে ফুটবল খেলতে শুরু করেছিলেন তাঁরা।

মহম্মদ পলাশ নামের স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ‘হঠাৎ করেই দেখলাম বৃষ্টি শুরু হল। তারপর ভয়ংকর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত। তিনটে ছেলে দেখলাম, খেলতে খলতে মাঠের মধ্যেই লুটিয়ে পড়ল।’ এরপরই তিনি জুড়লেন, ‘বাকি প্লেয়ারেরা তড়িঘড়ি ওই তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে একজন বেঁচে গেলেও, প্রাণ হারায় বাকি দু’জন।’ এদিকে ওই দুই ক্রিকেটারের কোচ আনয়ার হোসেন লিটন জানিয়েছেন যে, পরবর্তী টুর্নামেন্টে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিতে জোরকদমে প্র্যাকটিস করছিলেন নাদিম এহং রহমান। জাতীয় স্তরের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেই তাঁরা মূলত প্র্যাকটিস করছিলেন বলে আরও যোগ করলেন লিটন।

২০১৬ সালের মে মাসে একদিনে বজ্রপাতের কারণে ৮২ জন প্রাণ হারানোর পরে এটিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বাংলাদেশ সরকারের তরফে। সে দেশের নন-প্রফিট নেটওয়ার্ক ডিজ়াস্টারের তরফে জানানো হয়েছে যে, ২০২০ সালে এখও অবধি ৩৫০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন স্রেফ বজ্রপাতের কারণেই। প্রত্যেক বছর কিছুটা নিয়ম করেই বজ্রপাতে প্রচুর মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশে। বিশেষ করে এই ঘোর বর্ষায়। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যেই বাংলাদেশে বজ্রপাতে সবথেকে বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন সে দেশে। আর চলতি বছরে এর মধ্যেই বজ্রপাতের কারণে বাংলাদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫০ জন।