সকালে খালি পেটে আপেল সিডার ভিনেগার (apple cider vinegar) পান করার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এর সাহায্যে আপনি সহজেই ওজন কমাতে পারেন। সকালে আপেল ভিনেগার পান করলে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের সমস্যাও উপশম হয়। এছাড়াও আপেল ভিনেগার ব্যবহারে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়।

আসলে আপেল ভিনেগারে রয়েছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং সাইট্রিক অ্যাসিড। এছাড়াও এতে ভিটামিন বি এবং সি পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলি অনেক সমস্যার সমাধান করতে ব্যবহৃত হয়। আসুন জেনে নিই সকালে খালি পেটে আপেল সিডার ভিনেগার পান করার উপকারিতা এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন।

সকালে খালি পেটে আপেল ভিনেগার পানের উপকারিতা জেনে নিন:

আপেল সিডার ভিনেগার পান দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপেল ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা শরীরের চর্বি কমাতে সহায়ক। এছাড়াও, এটি শরীরে চর্বি জমতে দেয় না। এটির সাহায্যে আপনি সহজেই ওজন কমাতে পারেন তবে এর সাথে সঠিক ডায়েট এবং ব্যায়াম করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

হজমের সমস্যায় অনেকেই সমস্যায় পড়েন। খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়ায় গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আপেল সিডার ভিনেগার হজমের জন্য খুবই উপকারী। সকালে খালি আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া হজমের রসকে উদ্দীপিত করতে পারে, যা হজমে সাহায্য করে। তাই, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আপেল সিডার ভিনেগার খেলে সারাদিন হালকা লাগে।

আপেল সিডার ভিনেগার সেবন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। আপেল সাইডার ভিনেগারে রয়েছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং ফ্ল্যাভোনয়েড, যা আপনার শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করে। এর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সুষম পরিমাণে এটি খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে।

কোলেস্টেরলের বর্ধিত মাত্রা আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এতে হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আপেল ভিনেগারের অ্যাসিটিক অ্যাসিড কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড (বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডের মিশ্রণ) কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও, খালি পেটে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) মাত্রা কমাতে এবং এইচডিএল (ভাল কোলেস্টেরল) মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এর সেবন হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ডায়াবেটিসের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিনেগার খাওয়া গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও অ্যাসিটিক অ্যাসিডের মধ্যে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক এবং অ্যান্টি-গ্লাইসেমিক উপাদান পাওয়া যায়, যার সাহায্যে ডায়াবেটিসের সমস্যায় উপশম পাওয়া যায়।

মাঝে মাঝে দাঁত হলুদ হয়ে যাওয়ার কারণে বিব্রত হতে হয়। আপেল সাইডার ভিনেগার ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। তবে এর পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আপেল ভিনেগারে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা জয়েন্টের ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিনোসাইসেপ্টিভ বৈশিষ্ট্য, যা জ্বালা থেকে মুক্তি দেয়।

আপেল ভিনেগার কিভাবে ব্যবহার করবেন:

সকালের রসে মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি আপনাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি দেয়।

ডাক্তারের পরামর্শের পর সকালে খালি পেটে এক বা দুই চামচ ভিনেগার পান করা যেতে পারে।

হালকা গরম জলে এক বা দেড় চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করলে দ্রুত ওজন কমানো যায়।

এর বাইরে যদি আপনি সকালে সালাদ খান, তবে আপেল ভিনেগারও সালাদে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সতর্কতা

এটি বেশি খেলে ক্ষুধা লাগার সমস্যা কমে যায়।

এটি অনিয়মিতভাবে সেবন করলে বমি বমি ভাব এবং বমির মতো সমস্যা হতে পারে।

অত্যধিক অ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যবহার দাঁত ক্ষয় হতে পারে।

এছাড়াও, আপনার যদি সংবেদনশীল ত্বক থাকে তবে আপনার আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করা এড়িয়ে চলা উচিত্‍।

আরো পড়ুন:  Curry leaf: সকালে খালি পেটে কারি পাতা খেলে কি কি স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন জেনে নিন