আমেরিকার সবচেয়ে বেশি কৃষিজমির মালিক। কিন্তু নিজে কোনোদিন চাষের জমিতে নামেননি। কীভাবে বীজ বোনা থেকে ফসল তোলার প্রক্রিয়া চলে, তার কোনো ধারণাই নেই তাঁর। অবশ্য সারা পৃথিবীর মানুষ তাঁকে একডাকে চেনেন। সেটা অন্য পরিচয়ে। মাইক্রোসফট কোম্পানির কর্ণধার বিল গেটস। হ্যাঁ, ২০১৮ সাল থেকে বিল গেটসই আমেরিকার সবচেয়ে বেশি কৃষিজমির মালিক। কিন্তু কৃষিকাজ সম্পর্কে যাঁর কোনো অভিজ্ঞতাই নেই, তিনি এই বিশাল সম্পত্তি নিয়ে কী করেন? এই প্রশ্নের সঙ্গেই উঠে আসছে মার্কিন অর্থনীতিতে বর্ণবৈষম্যের কিছু প্রসঙ্গও। এমনকি বর্তমান পুঁজি-অর্থনীতিতে বিলিয়নিয়রদের একচেটিয়া অধিকার নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

২০১৮ সালে পূর্ব ওয়াশিংটনে ১৪৫০০ একর কৃষিজমি কিনেছেন বিল গেটস। আর এর পর তাঁর মোট সম্পত্তির মধ্যে কৃষিজমির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৪২ হাজার একর। অথচ আফ্রিকান-আমেরিকান জনজাতির বহু মানুষের এখনও ন্যূনতম কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। শ্বেতাঙ্গদের জমিতে চুক্তি ভিত্তিতে চাষ করেন তাঁরা। অথবা কোনো ফুড প্রোজেক্টের অস্থায়ী কর্মী হিসাবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এসবই খুব চেনা দৃশ্য। বিল গেটসের বিপুল সম্পত্তি সেই প্রকৃত দৃশ্যের সামান্য চূড়া। একজন মানুষের অধিকারেই রয়েছে ২ লক্ষ ৪২ হাজার একর জমি। আয়তনে যা হংকং শহরকেও হার মানাবে!

বিল গেটসের সম্পত্তির মতোই আলোচনায় উঠে আসছে টেড টারনারের কথাও। যাঁর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একটি ২ লক্ষ একর আয়তনের বনভূমি। জংলি মোষের অভয়ারণ্য হিসাবে সেই অরণ্য গড়ে তুলেছেন তিনি। কিন্তু সরকারি নথি বলছে, সেই বনভূমি আসলে স্থানীয় উপিজাতিদের জন্য বরাদ্দ থাকার জায়গা। তাহলে সেই নথি সত্যি নাকি টারনারের মালিকানা? নাকি শুধুমাত্র অর্থের জোরেই সমস্তকিছুর উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়? আসলে জমিই যে সবচেয়ে বড়ো সম্পদ। আমেরিকার অর্থনীতি যেন তাই বরাবরই কালো চামড়ার মানুষদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এসেছে। আর এখন সেই ক্ষমতার মানচিত্রে ঢুকে পড়েছে আরও একটি সমীকরণ। পুঁজি। এই সময় যেন পুঁজিপতিরাই সবচেয়ে বড়ো দার্শনিক। তাঁরাই পরিবেশ দূষণের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবেন? বিল গেটসের বেশ কিছু লেখা থেকে তেমন কথাই প্রকাশ পায়। অথচ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার করুণ দৃশ্যগুলো আলোচনার বাইরেই থেকে যায়।