নিউজপোল ডেস্ক:‌ সাদা–হলুদ ধোঁয়া ওঠা ভাতের ওপর ইয়াব্বড় বড় পাঁঠার টুকরো। আঁতর–গোলাপজল–জায়ফলের গন্ধে ম ম। গামলার পর গামলা চলেছে। পাশে মন্ত্র পড়তে পড়তে চলেছেন পুরোহিতরা। মন্দিরের দিকে। স্বপ্ন নয়। সত্যি। তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলায় মুনিয়াণ্ডির মন্দির।

চিনি, নকুলদানা, লাড্ডু নয়। ভাদাক্কামপট্টি গ্রামের এ দেবতা মাটন বিরিয়ানিতে তুষ্ট। তাও আবার প্রাতরাশেই খেতে পছন্দ করেন। বিশ্বাস হচ্ছে না?‌ ভোর ৪টের সময় মুনিয়াণ্ডি দেবকে মাটন বিরিয়ানি নিবেদন করা হয়। গত ৮৩ বছর ধরে। আর সেই প্রসাদ খেতে ৫টা থেকেই ভক্তদের ঢল নামে।
তিরুমঙ্গলম তালুকের এই মন্দিরে প্রতি জানুয়ারিতে বাৎসরিক অনুষ্ঠান হয়। তিন দিন ধরে চলে উৎসব। তখনই দেবতাকে প্রায় ২০০০ কেজি মাটন বিরিয়ানির ভোগ দেওয়া হয়। মন্দির কমিটির সদস্য এন মুনিস্বরন জানালেন, ‘‌গত বছর ১৮০০ কেজি বিরিয়ানির ভোগ দেওয়া হয়। ২০০ ছাগল আর ২৫০ মুরগীর বলি হয়। এ বছর পরিমাণটা আরও বেশি।’‌ আট থেকে ৮০— সকলেই সেই বিরিয়ানি চেটেপুটে খান। প্রসাদে বিরিয়ানি কেন?‌ এক পুরোহিত জানালেন, এই ভাদাক্কামপট্টি গ্রামের বাসিন্দাদের মতো মুনিয়াণ্ডি দেবতাও বিরিয়ানি খেতে দারুণ ভালোবাসেন।
এই উৎসব থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই গত শতাব্দীর সাতের দশকে তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় বিরিয়ানি চেন মাদুরাই শ্রী মুনিয়াণ্ডি বিলাস তৈরি হয়। তৈরি করেন এই গ্রামেরই এসভিএস সুব্বা নাইডু। এখন গোটা দক্ষিণ ভারতে ১০০০–এর বেশি দোকান রয়েছে নাইডু পরিবারের। পরে অবশ্য এই ভাদাক্কামপট্টির অনেকেই ওই একই নামে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন শহরে বিরিয়ানির দোকান খুলেছেন।