নিউজপোল ডেস্ক:‌ এর আগে সাত জন পেয়েছেন। তিনি অষ্টম যিনি, ভারতে জন্মে নোবেল পেয়েছেন। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। সারা দেশ উচ্ছ্বসিত। একের পর এক শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট হচ্ছে সোশ্যাল সাইটে। প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা থেকে শিক্ষাবিদ— অভিনন্দন জানিয়েছেন সকলেই। এসবের মধ্যেও অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীকে একহাত নিয়েছেন বিশিষ্ট বিজেপি নেতা অনন্ত কুমার হেগড়ে।
সংখ্যালঘুদের নিয়ে আলটপকা মন্তব্য নতুন নয়। এমনিতে বলতে গেলে প্রায়ই বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ হেগড়ে। এবার ছাড়লেন না নোবেলজয়ীকেও। লিখলেন, ‘‌হ্যাঁ, সেই লোকটা যে নাকি দেশের মূল্যবৃদ্ধি আর করের হার বাড়ানোর সুপারিশ করেছিলেন.‌.‌ তাঁকে ২০১৯ সালে নোবেল দেওয়া হল। পাপ্পু এতদিনে ওঁর ন্যায় প্রকল্প নিয়ে দারুণ খুশি হবে। তা দেশবাসী যতই অসুবিধায় পড়ুক’‌। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের ইস্তেহারে কংগ্রেস জানায়, ক্ষমতায় এলে ন্যূনতম আয় যোজনা (‌ন্যায়)‌ প্রকল্প আনবে। এই প্রকল্পের জন্য বহু অর্থনীতিবিদের পরামর্শ নেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন ডা.‌ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই অভিজিৎ নোবেল পাওয়ার পরেই টুইটারে অভিনন্দন জানান রাহুল গান্ধী। সেই বিষয়টিকে নিয়েই একহাত নেন হেগড়ে।
তবে কংগ্রেসের প্রকল্পে পরামর্শ দেওয়ার জন্যই শুধু অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর বিজেপি ক্ষুব্ধ নয়। প্রেসিডেন্সির এই প্রাক্তনী বরাবরই বিজেপি–র বিভিন্ন আর্থিক নীতির সমালোচনা করে থাকেন। নোট বাতিল নিয়ে বিজেপি সরকারের ভয়ঙ্কর সমালোচনা করেন। এমনকী প্রাক্তনী হিসেবে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে জেএনইউ–এর পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ান। তাঁদের স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। জেএনইউ পড়ুয়াদের ‘‌দেশদ্রোহী’‌ দাগানোরও প্রতিবাদ করেছিলেন। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ অর্থনীতি এবং সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপকরা একটি আবেদন করেন। তাতে বলেন, দেশের স্বার্থেই পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণা বা প্রকাশ করা সংগঠনগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা দরকার। আবেদনটি সই করেছিলেন ১০৮ জন ভারতীয় এবং প্রবাসী ভারতীয় অধ্যাপক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডা.‌ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। এ হেন এক অর্থনীতিবিদ নোবেল পেলে শাসকদল যে খুব একটা খুশি হবে না, সেটাই স্বাভাবিক।