কলকাতা: করোনা মোকাবিলায় সপ্তাহে দুই দিন করে সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে। আগের এই ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সেই লকডাউনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমগ্র অগাস্ট মাস জুড়ে কবে কবে রাজ্যে লকডাউন তা জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। আর সেই তালিকা দেখেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করেছে বিজেপি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও রবিবার সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে রাজ্যে। তবে অনুষ্ঠান থাকলে সেই দিনগুলো বাদে অন্যদিন লকডাউন হবে। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “৩১ অগাস্ট পর্যন্ত প্রতি রবিবার রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে। এছাড়াও শনিবার করে লকডাউন ধার্য করা হয়েছে। তবে মাঝে দুই-তিনটি শনিবার ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস পড়ে যাওয়ায় সেই দিন বদলানো হচ্ছে।”

যদিও পরে সেই তালিকাও বদল করা হয়। একাধিক শনিবার লকডাউন না করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। চূড়ান্ত হয় যে চলতি সপ্তাহে রবিবার লকডাউন হবে। পরের মাসের প্রথম সপ্তাহে ২ অগাস্ট, ৫ অগাস্ট সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে রাজ্যে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৮ অগাস্ট, ৯ অগাস্ট সম্পূর্ণ লকডাউন হবে। তৃতীয় সপ্তাহে ১৬ ও ১৭ অগাস্ট লকডাউন হবে। আর মাসের চতুর্থ সপ্তাহে ২৩ ও ২৪ অগাস্ট সম্পূর্ণ লকডাউন হবে। এই মাসের শেষে ৩১ অগাস্ট লকডাউন হবে।

আর এই তালিকা নিয়েই আপত্তি তুলেছে বিজেপি শিবির। একই সঙ্গে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ৫ অগাস্ট রাম মন্দির নির্মাণের ভূমি পুজো রয়েছে। ওই দিন লকডাউন মানে বাংলার কোনও মন্দিরে কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না। একই সঙ্গে ১৭ অগাস্ট বাংলার শ্রাবণ মাসের অন্তিম দিন। ওই দিনে মনসা পুজো করা হয়ে থাকে। সেদিনও লকডাউন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুই অনুষ্ঠানের দিনে লকডাউন জারি করা হলেও বকরি ঈদের দিনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে গিয়েছে আলোচনা। খুব শীঘ্রই এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি আসরে নামবে তা বলাই বাহুল্য। যদিও ৩ অগাস্ট রাখী পুর্ণিমার দিনে লকডাউন নেই। ২২ অগাস্ট গণেশ চতুর্থীর দিনেও প্রথমে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। যদিও পরে তা বাতিল করা হয়।