শেখর দুবে: অসমের পর বাংলায় এনআরসি করাটা খুব সহজ হবে না। বুঝে গেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ নাগরিক পঞ্জীর প্রক্রিয়া শুরু করতে গেলেই এককাট্টা হয়ে দাঁড়াবে বিজেপি বিরোধী দলগুলো। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০১৬) পাশ করালে একমাত্র এনআরসি–র রাস্তা মসৃণ হতে পারে। এজন্য বাংলার বিজেপি কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখুন, চান দলীয় প্রধান তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অসমের পর বাংলা সহ সারা দেশে এনআরসি চাইছে মোদী সরকার। অন্যদিকে অসমে এনআরসি-তে ১২ লক্ষ জনের নাম বাদ যাওয়াকে হাতিয়ার করছে তৃণমূল সহ বাংলার অন্যান্য বিজেপি–বিরোধী দলগুলি। বাংলাদেশ থেকে ধর্মের নামে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে আসা হিন্দু বাঙালির অধিকার রক্ষার কথা বারবার বলছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অসম এনআরসিতে বড় সংখ্যক হিন্দু বাঙালির নাম বাদ গেছে। এর ফলে যথেষ্ট চাপের মুখে বিজেপি। ২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন৷ তার আগে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি করা গেলে ভোটে ফায়দা তোলা যাবে। এজন্য এখন মরিয়া কেন্দ্রের শাসক দল। সূত্রের খবর, অমিত শাহ তাই চাইছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল‌ পাশ করানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখুন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

কী এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল‌ বা ক্যাব? অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ২০১৬ সালে মোদী সরকার লোকসভায় একটি সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল এনেছিল। যে বিলে বলা হয় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান সহ প্রতিবেশী দেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে এ দেশে আসা নির্যাতিত হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবে। কিন্তু এই সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০১৬, রাজ্য সভায় পাশ হয়নি তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম সহ কয়েকটি দলের বিরোধিতায়। চলতি বছর আগস্টে অসমে চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশিত হয়। তাতে বড় সংখ্যাক হিন্দু বাঙালির নাম না থাকার ঘটনা বিজেপি–বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। অমিত শাহ সহ অনেক বিজেপি নেতা বার বার হিন্দুদের আশ্বাস দিয়েছেন। শাহ বলেছেন, একজন হিন্দুকেও ঘর ছাড়তে হবে না। কিন্তু এতে খুব একটা কাজ হয়নি। উল্টে সাধারণ মানুষ সন্ত্রস্ত। এর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের ভোট বাক্সেও পড়বে বলে মনে করছেন বিজেপি–র একাংশ। তাই বাংলায় এনআরসি হওয়ার আগেই ‘‌ক্যাব’‌ আনতে অনেকটাই মরিয়া বিজেপি। বিজেপি সূত্রের খবর, এ জন্যই শাহ চাইছেন বাংলার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ক্যাব চেয়ে চিঠি লিখুক প্রধানমন্ত্রীকে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের পর বাংলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। এখন বাংলার বৃহৎ সংখ্যক মানুষ যদি ক্যাব এবং এনআরসিকে সমর্থন করেন তাহলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উপর পাল্টা চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পুনরায় সংসদে পেশ হলে তা পাশ করানোর ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

বঙ্গ-বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহিত রায় নিউজপোলকে বলেন, ‘‌ক্যাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখার বিষয়টি সারা বাংলা জুড়েই হবে৷ আমরা আলোচনা করছি, কীভাবে এটা নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনো হবে, লক্ষী পুজোর পরই বিশদে বলতে পারব৷ ‘