Blackberry

নিউজপোল ডেস্ক: মনে করা হচ্ছিল, Blackberry তাদের স্মার্টফোনের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে চলেছে। কিন্তু, খুশির খবর, ২০২১ সালেই নর্থ আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে কামব্যাক করতে চলেছে ব্ল্যাকবেরী। ব্ল্যাকবেরী OnwardMobility নামে আমেরিকার একটি স্টার্টআপ এবং ফক্সকন অধীনস্থ FIH মোবাইল লিমিটেডের সাঙ্গে একটি নতুন পার্টনারশীপ লাইসেন্সিং এর মাধ্যমে বাজারে ফিরতে চলছে একসময়ের এই অভিজাত ফোন নির্মাতা সংস্থা। জানা গেছে, ব্ল্যাকবেরীর নতুন ফোনটিতে ফাইভ জি টেকনোলজির সাঙ্গে Blackberry কিবোর্ড থাকবে। সংস্থাটি ইতিমধ্যে ব্ল্যাকবেরী ব্রান্ডেড ফোন ডেভলপ, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রোডিউস করার জন্য অনওয়ার্ড মোবিলিটি ও এফআইএইচ কে স্বত্বাধিকার দিয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সাথে ফিজিক্যাল কিবোর্ডর কম্বিনেশান পছন্দ করেন এমন মানুষের সংখ্যা নগণ্য। তবে এখনও ব্ল্যাকবেরীর প্রচুর লয়্যাল ফ্যান এবং সিনিয়র সিটিজেন এরকম আছেন যারা ফিজিক্যাল কিবোর্ডই বেশী পছন্দ করেন এবং তাদের কাছে, ব্ল্যাকবেরীর ফোন মার্কেটে নতুনরূপে ফিরে আসা যথেষ্ট আনন্দদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্ল্যাকবেরীর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO) John Chen বলেছেন, ব্লাকবেরী এখন শিহরিত। কারন অনওয়ার্ড মোবিলিটি ফিজিক্যাল কিবোর্ড সহ যে Blackberry ব্র্যান্ডেড ফাইভ জি ফোন প্রোডিউস করবে, তার সাথে থাকবে হাই স্ট্যান্ডার্ড অফ ট্র্যাস্ট এবং সিকিরিউটি যেগুলি আমাদের ব্যান্ডের সাথে সমার্থক। আমরা আনন্দিত যে, আমাদের এই আপকামিং ফোনটিতে কাস্টমারেরা এন্টারপ্রাইজ এবং গর্ভমেন্ট লেভেল সিকিরিউটি এবং মোবাইল প্রোডাক্টিভিটির অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।

Android মার্কেটে আসেনি, যখন ফোনের জগতে আধিপত্য বিস্তার করে থাকতো Nokia এবং Blackberry এর মতো সংস্থা। এখনকার আইফোনের মতো তখন ব্ল্যাকবেরীর ফোনগুলি ছিল আভিজাত্যের পরিচায়ক। মার্কিন যুক্তরাষ্টে একসময় ফোন বিক্রিতে মার্কেট লিডার হিসেবে থাকা ব্ল্যাকবেরী বিজনেস পারসন, গর্ভমেন্ট অফিসিয়াল এবং রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে গণ্য করা হতো। কোম্পানীর তৈরি Curve, Pearl, Bold সিরিজের QWERTY কিপ্যাডের ফোনগুলি জনমানসে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।

কিন্তু প্রথমে অ্যাপেলের আইফোন ও পরে গুগল অ্যান্ড্রয়েড বাজারে আসার পর Blackberry ফোনের সেল ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। এর পর ২০১৬ সালে TCL কমিউনিকেশনের সাথে ব্ল্যাকবেরী তাদের স্মার্টফোন সফটওয়্যার এবং ব্রান্ড লাইসেন্সিং এর চুক্তি করেছিল। কিন্তু তারপরেও ব্ল্যাকবেরী ওএসের বদলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা টিসিএলের বানানো ব্ল্যাকবেরী ব্রান্ডেড ফোনগুলি বাজারে খুব একটা সারা ফেলতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই চলতি বছরে টিসিএলের সাথে ব্ল্যাকবেরীর পার্টনারশীপের চুক্তি শেষ হওয়ার সেটির আর পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। বিগত কয়েকবছর টিসিএলের সাথে পার্টনাশীপের মাধ্যমে ব্ল্যাকবেরীর স্মার্টফোনের ব্যবসা খুব একটা ভাল সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়নি। এখন এটাই দেখার বিষয়, সংস্থার আসন্ন ফোনটি ক্রেতাদের চাহিদা কতটা পূরণ করতে পারবে। তবে ফোনটির হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার স্পেসিফিকেশন কিরকম হতে চলেছে সেই সর্ম্পকিত তথ্য আপাতত অমিল।