নিজস্ব সংবাদদাতা:‌ সন্তানের জন্মদিনে ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করার পথে হাঁটেন অনেকেই। তবে ভিন্নধারার যে উদ্যোগ কলকাতার শিল্পী, পরিচালক শমীক রায়চৌধুরী নিলেন, সেটা নজির হয়ে থাকল এই শহরের বুকে। পুত্র আহিরের দ্বিতীয় জন্মদিনটা বড়সড় উৎসবের মেজাজেই পালন করবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন শমীক। গতবছর এই দিনটা তাঁকে কাটাতে হয়েছিল একবছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে। সেখানেই শমীকের সন্তানের চিকিৎসা চলছিল। হোটেলের ঘরে বসেই একবছরের ছোট্ট সন্তানের কাছে শমীক প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এই বছরটা চিকিৎসার কারণে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে পুত্র আহিরের জন্মদিন পালন করা গেল না। তাই পরের বছর (‌২০১৯)‌ সকলের সঙ্গে মিলেমিশে পালন করা হবে জন্মদিন। ধুমধাম করে এমন অনুষ্ঠান করা হবে, যে উৎসবে অংশ নেবেন অনেক মানুষ। কিন্তু বিধি বাম। ৭ ডিসেম্বর ২০১৮–তে হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচারের ধকল সহ্য করতে না পেরে প্রয়াত হয় ছোট্ট আহির। তার জন্মদিনে দক্ষিণ কলকাতার অশোক ব্লাডব্যাঙ্কে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করলেন শমীক। নিজেও রক্ত দিলেন।


তবে ছেলেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোলেননি শমীক। তিনি বলেছেন, ‘‌ওকে কথা দিয়েছিলাম ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করব। অনেক নিকটজন আসবেন। আজ আহির নেই বলে ওকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিটা তো আর মিথ্যা হয়ে যায় না। তাই এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছি।’‌ শুধু রক্তদান শিবিরের আয়োজন করাই নয়, প্রতিশ্রুতির কথা মাথায় রেখে দমদমের একটি অনাথ আশ্রমে দুঃস্থ শিশুদের খাওয়ানো এবং পোশাকদানও করেছেন শমীক। তিনি বললেন, ‘‌এই রক্তদান শিবিরটা একটু ভিন্নধরনের। আমার ইচ্ছা ছিল, রক্তদানের ঘরটি আহিরের ছবি দিয়ে সাজানো হোক। অশোক ব্লাডব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি দিয়েছেন এবং সমস্তরকম সহযোগিতা করেছেন। তাই ওদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাতে চাই সমস্ত রক্তদাতাদের।’‌ রক্তদানের কাজে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতা পেয়েছেন শমীক। ওই সংস্থার তরফে এক কর্মী জানালেন, ‘‌শমীকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সন্তানশোকের থেকে তীব্র আর কোনও আঘাত হয় না। এই শোকের মধ্যেও ছেলেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে শমীক রক্তদানের মতো মহৎ কাজকে বেছে নিয়েছেন, সেজন্য ওঁর প্রশংসা প্রাপ্য। কোনও শিবিরে রক্তদান করলে রক্ত সংগ্রহকারী ব্লাডব্যাংক সংশ্লিষ্ট রক্তদাতাকে একটি কার্ড দেয়। রক্তদাতার কিংবা তাঁর পরিচিত কারও যদি রক্তের দরকার হয়, তাহলে তাঁরা ওই কার্ড ব্লাডব্যাঙ্কে দেখিয়ে রক্ত পেতে পারেন। ‌আমরা রক্তদাতাদের অনুরোধ করেছিলাম, যদি তাঁরা এই কার্ডটি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের দান করেন, তাহলে অনেকগুলি শিশুর প্রাণ বাঁচবে। রক্তদাতারা সেই অনুরোধ রেখেছেন। তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’‌ পাশাপাশি ওই সংস্থার মুর্শিদাবাদ শাখার সদস্যরাও আহিরের স্মৃতির উদ্দেশে জঙ্গিপুর ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান করেন।