আয়তন ১৬০০ বর্গমিটার বা ১৭ হাজার বর্গফুট। অর্থাৎ, তার মধ্যে ঢুকে যাবে কম করে ৮-৯টি টুবিএইচকে ফ্ল্যাট। না, কোনো রাজপ্রাসাদের কথা হচ্ছে না। এই আয়তন আসলে পৃথিবীর সবথেকে বড়ো মনুষ্যসৃষ্ট চিত্রকর্মের। অদ্ভুত এই চিত্রশিল্পের জন্ম দিয়েছেন ব্রিটিশ শিল্পী সাচা জাফরি। সম্প্রতি তাঁর এই চিত্রকলাকে স্বীকৃতিও দিয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। তবে সবথেকে প্রশংসনীয় বিষয় হল, এই ছবি থেকে উপার্জিত সমস্ত অর্থই তিনি দান করছেন শিশুকল্যাণের জন্য।

দুবাইয়ের একটি নির্জন হোটেলের বলরুমের মাটিতে এই বিশাল ছবিটি আঁকেন তিনি। দীর্ঘ আট মাসের পরিশ্রমের পর অবশেষে পূর্ণতা পায় ছবিটি। লকডাউনে দুবাইয়ের পর্যটক-শূন্যতাকে এইভাবেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে ছবিটি। প্রাথমিকভাবে জাফরির পরিকল্পনা ছিল মোট ৭০টি খণ্ডে তিনি নিলামে তুলবেন এটিকে। আশা ছিল, হাতে আসবে ২০-২২ মিলিয়ন ডলার। তবে ছবিটি নিলামে তোলার পর নিজেই অবাক হয়ে গেছেন শিল্পী। ফরাসি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী আন্দ্রে আবদুন পুরোটা ছবিটি কিনে নিয়েছেন এককভাবেই। পাশাপাশি নিলামে তার দাম উঠেছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, দ্বিগুণের থেকেও বেশি। শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, দামের দিক থেকেও বর্তমান ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রিত হওয়া চিত্রশিল্পগুলির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে জাফরির আঁকা এই ছবি…

তবে এই বিপুল অঙ্কের অর্থের কানা-কড়িও পকেটস্থ করছেন না তিনি। দুবাই কেয়ারস, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো এবং গ্লোবাল গিফট ফাউন্ডেশনে পাঠানো হচ্ছে এই টাকা। তা দিয়ে ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিভিন্ন দেশে দুঃস্থ, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নেওয়া হবে বিভিন্ন উদ্যোগ। পৌঁছে দেওয়া হবে সাহায্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্যানিটাইজেশন এবং খাদ্য।

চলতি মহামারীই দৃষ্টি খুলে দিয়েছে, শিল্পীর বক্তব্য এমনই। আঞ্চলিক শিশুদের অবস্থা জানতে পৃথিবীর সমস্ত দেশের কাছে পরিস্থিতির ছবি পাঠানোর জন্য আবেদন করেছিলেন জাফরি। উত্তর পান ১৪০টি দেশের থেকে। আর তারপরই এই উদ্যোগ।

৪৪ বছর বয়সী এই উদ্যোগে অভিভূত নেটিজেন থেকে বিশ্বের তাবড় তারকারাও। ছবি এবং উদ্যোগ দুইয়ের জন্যই প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তবে শুধু ছবি আঁকাতেই নয়। ছবির মধ্যে দিয়ে এক নতুন বার্তা দিচ্ছেন জাফরি। প্রত্যেক মানুষের কাছেই তিনি আবেদন রাখছেন সামর্থ্য মতো বর্তমান পরিস্থিতিকে সামাল দিতে যেন এগিয়ে আসেন তাঁরা। তাহলেই একদিন বৈষম্য মুছে জয় আসবে। শুরু হবে সভ্যতার নতুন যাত্রা। সেখানেই যেন সমার্থক হয়ে যায় ছবির নাম। ‘জার্নি অফ হিউম্যানিটি’…