নিউজপোল ডেস্ক: কৈশোরে মারাত্মক বর্বরতা সহ্য করতে হয় কীর্তি জয়কুমারকে। মারধর, মৌখিকভাবে নির্যাতন, যৌন নির্যাতন এমনকী অ্যাসিড আক্রমণের হুমকিও সহ্য করতে হয়েছে। যৌন হেনস্থার শিকার ৮ হাজার জনকে ‘সাহস’ জোগাচ্ছেন সেই কীর্তি জয়কুমার। কীর্তির কথায়, ‘এই সমস্ত ঘটনার সময়ে, আমার পরিবারই সমর্থন করেছিল। বিশেষত আমার মা। তাঁদের পাশাপাশি, দ্য ডায়েরি অব অ্যান ফ্র্যাঙ্কে বইটি আমাকে একটি শক্তি জুগিয়েছিল।’‌
এখন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ‘সাহস’ জোগাচ্ছেন যৌন হেনস্থায় আক্রান্তদের। হেনস্থার অভিজ্ঞতা ভুলে নতুন করে বাঁচতে সাহায্য করছে কীর্তিদের তৈরি এই সাহস অ্যাপ।

স্নাতক পাশ করে তিনি কর্পোরেট আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে হতাশ হয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। চেন্নাইয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের অনলাইন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে, এর পর কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি কিছু স্থানীয় প্রকাশনা, আইনি জার্নাল এবং প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে ফ্রিল্যান্সের কাজও শুরু করেছিলেন।
দিল্লিতে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি একটি পুরস্কার পান। তার দু’দিন আগে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন প্যারা মেডিক্যাল ছাত্রী। ঠিক তাঁর ছ’মাস পর রেড এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশন (আরএইফ) তৈরি হয়। লিঙ্গ বৈষম্য এবং অহিংসা দূর করার জন্য এই সংস্থা চেন্নাইয়ে তৈরি করা হয়। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত আরএইফ সংস্থাটি প্রায় ১২টি স্কুলে এবং ৪টি কলেজের ১২০টি ওয়ার্কশপ করেছে। ৩,৫০০ জনের বেশি শিশুর সঙ্গে কাজ করেছে।
কী ধরনের ওয়ার্কশপ হয়?
গল্প বলার মাধ্যমে আইন এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীর্তি স্কুল, কলেজ, কমিউনিটি সেন্টার এবং অফিসে একাধিক ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেছিলেন। ওয়ার্কশপের মাধ্যমে যৌন হেনস্থার বিষয়ে সচেতন করেন। বর্তমানে সাহস অ্যাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৪০ হাজার সংস্থা। যৌন হেনস্থার শিকার মানুষদের পাশে থাকছে। ৬’টি ভাষায় এই অ্যাপ কাজ করে। অ্যাপ্লিকেশনটি নির্যাতিতদের চিকিৎসা পরিষেবা, আইনি পরিষেবা, কনস্যুলার অ্যাক্সেস, আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের সন্ধান দিয়ে থাকে।