শেখর দুবে: রাজীব কুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিবিআই এবং নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে চলতে থাকা টানাপোড়েনে নতুন মোড়!‌ ১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট রাজীব কুমারের জামিন মঞ্জুর করেছে। কারণ হিসেবে হাইকোর্ট জানিয়েছে, সিবিআইয়ের পেশ করা তথ্যপ্রমাণের বিচার করে মনে হয়নি, রাজীবের পুলিশি হেফাজতের প্রয়োজন রয়েছে এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণভাবে এই রায়ের কয়েকদিন আগেই রাজনৈতিক ভাবে চরম বিরোধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বভাবতই এই সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে এনে মোদী-মমতা আঁতাতের কথা বলছেন বিরোধীরা। পশ্চিমবঙ্গের ডিওয়াইএফআই রাজ্যকমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ বলেন, ‘ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের) কোনও সফরই তো সফল হয়নি, অন্তত দিল্লি সফরটা সফল হল।’

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদীর চরম বিরোধিতা করেছেন মমতা। ২০১৪ থেকে ২০১৯ মোদী সরকারের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপেরই বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। এমনকি রাজীবের আবাসনে সিবিআই কর্তাদের তদন্তে যাওয়া নিয়ে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনাতেও বসেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যের বামেরা বারবার বলে এসেছে এসব আসলে লোক দেখানো, ভেতরে মোদী–মমতা আঁতাত রয়েছে।
হাইকোর্টে রাজীব কুমারের বেল মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শতরূপকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এর আগে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ইংল্যান্ড সহ একাধিক বিদেশ সফর করেছেন। দাবি করেছেন রাজ্যে শিল্প আসবে। কত শিল্প এসেছে আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু রাজীব কুমার জামিন পেয়ে যাওয়ায় একটা কথা ভেবে ভালো লাগছে। আমজনতার করের টাকায় মুখ্যমন্ত্রীর এবারের দিল্লি সফরটা অন্তত ব্যর্থ হয়নি।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে সারদা ও নারদা চিটফান্ড কাণ্ডে কলকাতা পুলিশ প্রধান রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যায় সিবিআই। সিবিআই সূত্রের খবর ছিল, সুদীপ্ত সেনের লাল-ডায়রি সহ একাধিক তথ্য না খুঁজে পাওয়াতেই রাজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তারা। এরপর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টি অন্যমাত্রায় পৌঁছয়। যদিও সুপ্রিম কোর্টে রাজীব কুমার বেশ কিছুটা ধাক্কা খান এবং তার সিবিআই তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আগেই তিনি গা ঢাকা দেন বলে অভিযোগ ছিল। এরপরই দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেটা রাজীব কুমারের বিষয় নিয়ে নয় বলেই তৃণমূল সূত্রে বলা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ে আপাতত স্বস্তিতে রাজীব।