নিউজপোল ডেস্ক: স্কুলে অনলাইনে ক্লাসে পড়াশোনা করতে রাজি না থাকায় মাঝেমধ্যেই তাকে বকাবকি শুনতে হত। এদিন সকালেও স্কুলের অনলাইন ক্লাস ছিল ছাত্রের। বাবা-মা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার আগে তাকে অনলাইন ক্লাসের জন্য বসিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। বাবা-মা দু’জন যখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তখন স্কুলের অনলাইন ক্লাস করছিল ছেলে। কিছুক্ষণ পর যখন বাবা ফিরলেন তখন বাড়ির দরজা ভেঙে সপ্তম শ্রেণীর ওই ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন করলেন। পাশে পড়ে মোবাইল। পরে হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা জানতে পারে রিজেন্টপার্ক থানার পুলিশ। অনলাইন ক্লাস চলার মাঝেই ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেন বলে অনুমান পুলিশ।

পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ছাত্র লোকজনের সঙ্গে খুব কম কথা বলত। কিছুদিন ধরে কোনো কারণে অবসাদে ছিল। ফলে পড়াশোনা নিয়ে বাবা-মায়ের বকুনির জন্য ওই ছাত্র আত্মঘাতী হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে এই ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এবিষয়ে অবশ্ কারও বিরুদ্ধে এখনও কোনো অভিযোগ হয়নি।

রিজেন্টপার্কের কালীতলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত ওই ছাত্র। স্থানীয় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ত। তার বাবা রেলের ঠিকাদার। মা শহরের একটি দাঁতের ক্লিনিকের কর্মী। বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা জানতে পেরে ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে যায় পুলিশের দল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাঁর বাবা প্রায় কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। কিন্তু গত দেড় মাস ধরে বাড়িতেই থাকছেন তিনি। মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ কাজে বেরিয়ে যান তার মা। তাঁকে সাইকেলে করে ছাড়তে যান ছাত্রের বাবা। করোনার কারণে কয়েক মাস ধরেই স্কুল গুলিতে অনলাইন ক্লাস চলছে। ঘটনার দিন সকালেও ওই ছাত্রের অনলাইন ক্লাস ছিল। ছেলেকে ক্লাস করতে দেখেই তাঁরা দু’জন বেরিয়ে যান। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ফিরে আসেন ছাত্রের বাবা। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। কাঠের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। তার বাবার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে তাঁর বাবা।